তৃণমূলের ‘ইচ্ছাকৃত নাম বাদ দেওয়ার’ অভিযোগ খারিজ, ভোটার তালিকায় নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বৈধ জানাল সুপ্রিম কোর্ট!

তৃণমূলের ‘ইচ্ছাকৃত নাম বাদ দেওয়ার’ অভিযোগ খারিজ, ভোটার তালিকায় নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বৈধ জানাল সুপ্রিম কোর্ট!

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তোলা গুরুতর অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিভিন্ন বিরোধী পক্ষের দাবি ছিল, এই বিশেষ স্ক্রুটিনির মাধ্যমে আসলে ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ছক কষা হয়েছে। কিন্তু বুধবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের (ECI) এই পদক্ষেপকে কোনোভাবেই ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা’ বলে তকমা দেওয়া ঠিক নয়।

নথি গ্রহণের পরিধি আরও বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ যুক্তিগ্রাহ্য বলে উল্লেখ করেছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কমিশন ভোটারদের পরিচয় ও সত্যতা প্রমাণের জন্য এমন ১১টি নথি চেয়েছে, যা সাধারণত এ দেশের যেকোনো সাধারণ মানুষের কাছে থাকারই কথা। উলটে, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি সংখ্যক ও বৈচিত্র্যময় নথি গ্রহণ করছে কমিশন, যাতে সাধারণ মানুষের নিজের নাগরিকত্ব বা ভোটার হওয়ার সপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে সুবিধা হয়।

প্রক্রিয়া অবাস্তব বা খামখেয়ালি নয়

তৃণমূল-সহ আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এই নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং বাস্তবসম্মত নয়। এই যুক্তি খণ্ডন করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই ডকুমেন্টস যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই ‘অবাস্তব’ বা ‘বাস্তববিমুখ’ বলা যায় না। এই গোটা প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট আইনি নিয়মাবলী, গাইডলাইন ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে; এখানে কোনো খামখেয়ালিপনা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের প্রমাণ মেলেনি।

এক ঝলকে

  • ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-কে (SIR) ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা বলে দাবি করেছিল তৃণমূল-সহ বিভিন্ন পক্ষ।
  • সেই অভিযোগ খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট জানাল, নির্বাচন কমিশন এমন ১১টি নথি চেয়েছে যা সাধারণ মানুষের কাছে থাকার কথা।
  • আগের তুলনায় আরও বেশি পরিমাণ নথি গ্রহণ করা হচ্ছে, তাই এই প্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা ভুল।
  • নথি যাচাইয়ের এই প্রশাসনিক রূপরেখা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত এবং নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে বলে সিলমোহর দিল শীর্ষ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *