৩২৪ ধারার অধীনেই ‘এসআইআর’ বৈধ, নাম ভুল করে বাদ পড়লে পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেবে নির্বাচন কমিশন!

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে আরও একধাপ স্পষ্ট বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এই বিশেষ স্ক্রুটিনির মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা কোনোভাবেই আইনবিরোধী বা অসাংবিধানিক নয়। বরং, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 324)—যা নির্বাচন কমিশনকে দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ভোটার তালিকা তৈরি ও নিয়ন্ত্রণের সর্বময় ক্ষমতা দেয়—তার ওপর ভিত্তি করেই এই ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইনি ও বৈধ।
নোটিশ ও শুনানির অধিকার অক্ষুণ্ণ
আদালত আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার এই প্রশাসনিক পর্বে সাধারণ নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা বজায় রাখা হয়েছে। প্রত্যেক ভোটারকে নিয়ম অনুযায়ী আগাম নোটিশ পাওয়ার এবং নিজের সপক্ষে বক্তব্য পেশ করার জন্য ‘শুনানির অধিকার’ (Right to Hearing) দেওয়া হয়েছে। পরিচয় ও নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য কমিশন যে সমস্ত নথিপত্র বা ডকুমেন্টস যাচাইয়ের নিয়ম বেঁধে দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত এবং দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এখানে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
ভুল সংশোধনের দরজা খোলা, পুনরায় আবেদনের সুযোগ
সাধারণ মানুষের আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে সুপ্রিম কোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ দিয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই স্ক্রুটিনির বিশাল প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি কোনো প্রকৃত নাগরিক বা ব্যক্তির নাম ভুলবশত ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলেও যায়, তবে তাঁর জন্য আইনি রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করার সম্পূর্ণ সুযোগ পাবেন। এবং সেই আবেদন জমা পড়ার পর দেশের নির্বাচন কমিশনকে (ECI) প্রচলিত আইন ও নিয়ম মেনেই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তা খতিয়ে দেখতে হবে।
এক ঝলকে
- সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট ঘোষণা—ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া মোটেও আইনবিরোধী নয়।
- ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের এই ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বৈধ ও এক্তিয়ারভুক্ত।
- এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের আগাম নোটিশ এবং শুনানির মৌলিক আইনি অধিকার সম্পূর্ণ বজায় রাখা হয়েছে।
- ভুল করে নাম বাদ গেলে পুনরায় আবেদনের সুযোগ পাবেন নাগরিকরা, যা আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখতে বাধ্য থাকবে কমিশন।