নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের তালিকা যাবে কেন্দ্রে, ৪ সপ্তাহের মধ্যে ইসি-কে তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের!

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) মামলায় দেশের কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাজের পরিধি ও এক্তিয়ার স্পষ্ট করে দিয়ে আরেকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, এই বিশেষ স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় বা সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তাঁদের একটি বিস্তারিত তালিকা ও তথ্য আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
কমিশনের ক্ষমতা শুধু ভোটার তালিকার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ
আদালত তাঁর রায়ে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমারেখা টেনে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করানোর স্বার্থে ভোটার তালিকা তৈরির সময় নির্বাচন কমিশন অবশ্যই কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই (Verify) করতে পারে। তবে কমিশনের এই ক্ষমতা বা এক্তিয়ার শুধুই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় রাখা হবে নাকি বাদ দেওয়া হবে—সেই প্রশ্ন বা সিদ্ধান্ত পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। এর বাইরে গিয়ে কোনো নাগরিকের চূড়ান্ত আইনি পরিচয় নির্ধারণের অধিকার কমিশনের নেই।
ভোটার লিস্টে নাম না থাকা মানেই ‘বিদেশি’ নয়
সাধারণ মানুষের আশঙ্কা দূর করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ দিয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা থেকে কোনো ব্যক্তির নাম বাদ যাওয়া বা নাম না থাকার অর্থ এই নয় যে, তাঁকে সরাসরি ‘বিদেশি নাগরিক’ (Foreigner) বলে ঘোষণা করা যাবে। নাগরিকত্ব নির্ধারণের বিষয়টি একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া, যা উপযুক্ত ট্রাইব্যুনাল বা আইনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া সম্ভব। ফলে ভোটার লিস্টের স্ক্রুটিনিকে কেন্দ্র করে কাউকেই সরাসরি বিদেশি তকমা দেওয়া যাবে না।
এক ঝলকে
- নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকা ব্যক্তিদের যাবতীয় বিস্তারিত তথ্য ৪ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের কাছে জমা দেবে নির্বাচন কমিশন।
- ভোটার তালিকা তৈরির স্বার্থে নাগরিকত্ব যাচাই করার আইনি এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে—জানাল সুপ্রিম কোর্ট।
- আদালত স্পষ্ট করেছে, কমিশনের এই ক্ষমতা শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।
- ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানেই কোনো ব্যক্তিকে আইনিভাবে ‘বিদেশি নাগরিক’ ঘোষণা করা যাবে না বলে সাফ জানাল শীর্ষ আদালত।