ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ‘না’, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

রাজ্যে নতুন চালু হওয়া অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বড় অঙ্কের আবেদনকারী এই প্রকল্পের আওতা থেকে বাদ পড়তে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ—যাঁরা ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছেন এবং ট্রাইবুনালে কোনো আবেদন জানাননি, তাঁরা এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে রাজ্য জুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের ওপর কোপ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি চাঞ্চল্যকর তথ্যের অবতারণা করে জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এই ৩০ লক্ষ মানুষ এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা পেয়ে আসছিলেন। তবে নতুন নিয়মের বেড়াজালে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ক্ষেত্রে তাঁদের সেই সুবিধা বন্ধ হতে চলেছে। যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই প্রশাসন এই কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
নতুন ফর্ম ও নারী-শিশুকল্যাণ দফতরের দায়িত্ব
প্রক্রিয়াটিকে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজ্য সরকার একটি নতুন বিশেষ ফর্ম চালু করতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের মহিলা ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজের দফতরের মাধ্যমে এই পুরো বিষয়টি পরিচালনা ও তদারকি করছেন। নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা এই নতুন ফর্ম এবং নির্দেশিকার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে। এর ফলে প্রকৃত নাগরিকদের কাছেই কেবল সরকারি অনুদান পৌঁছানো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এক ঝলকে
- ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ যাওয়া এবং ট্রাইবুনালে আবেদন না করা প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প থেকে বাদ পড়ছেন।
- বাদ পড়া এই বিশাল সংখ্যক মানুষ এতদিন রাজ্যের পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছিলেন।
- অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের স্ক্রীনিং ও যাচাইকরণের জন্য প্রশাসন একটি নতুন বিশেষ ফর্ম চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- এই পুরো স্ক্রীনিং প্রক্রিয়াটি রাজ্য মহিলা ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।