ঝিমুনির ওষুধ খাইয়ে রোগিণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, ব্রিটেনে ভারতীয় চিকিৎসকের কীর্তি ফাঁস!

চিকিৎসা করাতে এসে চিকিৎসকের সঙ্গে তৈরি হয়েছিল ঘনিষ্ঠতা। তবে সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত রূপ নিল চরম তিক্ততায়। রোগিণীকে দিনের পর দিন হাসপাতালের নথিবহির্ভূত ঝিমুনির ওষুধ খাইয়ে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ইংল্যান্ডের এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম চিরাগ প্যাটেল। তিনি ওয়েলসের কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিউরোসার্জেন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা নিয়ে এক নারী তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে আসেন। ২০২১ সালের মধ্যে ওই রোগিণীর মোট তিনটি অপারেশন করেন চিরাগ। দ্বিতীয় অপারেশনের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অসহায়ত্বের সুযোগ ও ব্ল্যাকমেল
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই রোগিণীর শারীরিক অবস্থা এতটাই জটিল ছিল যে পুরো ওয়েলসে চিরাগ ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসকের পক্ষে তাঁর চিকিৎসা করা সম্ভব ছিল না। এই চরম অসহায়তার সুযোগ নিয়েই চিরাগ ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। পরবর্তী সময়ে তাঁদের এই সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং রোগিণী পুরো বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চিরাগকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন।
হাসপাতালের নথিবহির্ভূত ওষুধ প্রয়োগ ও শাস্তি
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রোগিণীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিরাগ হাসপাতালের সরকারি নথিপত্রে উল্লেখ না করেই গোপনে আফিমজাতীয় ঝিমুনির ওষুধ দিতে শুরু করেন। প্রায় এক বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলার পর ওই নারী পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে বিষয়টি মেডিক্যাল কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনালে গড়ালে দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিরাগের অপরাধ প্রমাণিত হয়। ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট জানায়, চিরাগ নিজের পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে রোগীর জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছেন। এই রায়ের পরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত এই নিউরোসার্জেনকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে।