কৃত্রিম ডিম থেকে ফুটল মুরগিছানা, বিলুপ্তির অতল থেকে ফিরছে ১২ ফুটের দানবাকৃতির মোয়া!

কৃত্রিম ডিম থেকে ফুটল মুরগিছানা, বিলুপ্তির অতল থেকে ফিরছে ১২ ফুটের দানবাকৃতির মোয়া!

বিজ্ঞান কি পারবে প্রকৃতির নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে হারিয়ে যাওয়া প্রাণীদের ফিরিয়ে আনতে? ডাইনোসর না হলেও, পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া এক দানবাকৃতির পাখিকে ফিরিয়ে আনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এখন আধুনিক বিজ্ঞান। সম্প্রতি ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম ডিম থেকে ২৪টি সুস্থ মুরগিছানার জন্ম দিয়েছেন গবেষকরা। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, এই ঘটনাটি আসলে বিজ্ঞানীদের এক মহাকাব্যিক পরিকল্পনার প্রথম সফল ধাপ। এই সাফল্যের ওপর ভর করেই এবার পৃথিবীতে পুনর্জন্ম হতে চলেছে ডোডো এবং ১২ ফুট উচ্চতার দানবীয় পাখি ‘জায়ান্ট মোয়া’-র।

হারিয়ে যাওয়া জায়ান্ট মোয়ার ইতিহাস

এক সময় নিউজিল্যান্ডের বুকে রাজত্ব করত পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘকায় পাখি ‘জায়ান্ট মোয়া’। মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার এই পাখিগুলো দেখতে অনেকটা উটপাখি বা এমুর মতো হলেও আকারে ছিল বিশাল। এদের ডানার গঠন আসাম্পূর্ণ থাকায় এরা উড়তে পারত না, তবে দ্রুত দৌড়াতে পারত। আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগে মানুষের অতিরিক্ত শিকার এবং বাসস্থান ধ্বংসের কারণে মাত্র ১৫০ বছরের মধ্যে মোয়ার ৯টি প্রজাতিই পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

মুরগিছানার হাত ধরে ডি-এক্সটিংকশনের প্রস্তুতি

দীর্ঘকাল ধরে বিলুপ্ত এই পাখিকে কৃত্রিম উপায়ে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে একটি মার্কিন বিজ্ঞান সংস্থা। এই প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো ‘ডি-এক্সটিংকশন’ বা বিলুপ্ত প্রাণী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রযুক্তি। গবেষকরা মোয়ার ডিএনএ ব্যবহার করে কৃত্রিম ডিম তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। তবে মূল পরীক্ষাটি বড় কোনো প্রাণীর ওপর করার আগে ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল মুরগিকে। ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি ডিম থেকে যে ২৪টি মুরগিছানা জন্ম নিয়েছে, তাদের আচরণ ও শারীরিক গঠন একেবারেই সাধারণ মুরগির মতো। এই প্রাথমিক সাফল্য বিজ্ঞানীদের আত্মবিশ্বাস বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভবিষ্যতের পরিবেশ ও বিজ্ঞানে সম্ভাব্য প্রভাব

গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো, মুরগির ওপর করা এই সফল প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ধাপে জায়ান্ট মোয়ার কৃত্রিম ডিম প্রস্তুত করা। এই প্রকল্প সফল হলে ৬০০ বছর পর আবারও পৃথিবীর মাটিতে হেঁটে বেড়াবে বিলুপ্ত এই দানব পাখি। বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা এখানেই শেষ নয়; মোয়ার প্রত্যাবর্তন সফল হলে মানুষের হস্তক্ষেপে হারিয়ে যাওয়া বিখ্যাত ডোডো পাখিসহ অন্যান্য বিলুপ্ত প্রাণীদের ডিএনএ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হবে। এই প্রযুক্তি সফল হলে মানুষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য ফেরানো সম্ভব হতে পারে, যা চিকিৎসা ও জিনগত বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী বিপ্লব নিয়ে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *