সীমান্তে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সব অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কড়া নির্দেশ অমিত শাহের

দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে এক নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আন্তর্জাতিক সীমানার ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা সমস্ত বেআইনি ও অবৈধ নির্মাণ অবিলম্বে ভেঙে ফেলার জন্য সাফ জানিয়েছেন তিনি। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক লেনদেন এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং ভুয়ো নথিপত্র শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্র বিশেষ জোর দিচ্ছে।
আর্থিক লেনদেনে কড়া নজরদারি ও সুরক্ষার নতুন কৌশল
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা কেবল কাঁটাতারের বেড়ায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আর্থিক অপরাধ ও অনুপ্রবেশের মতো বিষয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নতুন নির্দেশনার ফলে সীমান্ত এলাকার ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক পরিকাঠামো উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি, ওই অঞ্চলের ব্যাঙ্ক এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক গতিবিধির ওপর নজর রাখলে চোরাচালান ও সীমান্তপারের অবৈধ অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। মূলত অনুপ্রবেশ, জাল নোটের কারবার এবং চোরাচালান রুখতেই এই সাঁড়াশি অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জমি জট কাটিয়ে তৎপরতা সীমান্তে
দীর্ঘদিন ধরে বাংলার বিভিন্ন জেলায় সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে এই প্রক্রিয়া থমকে ছিল। তবে সম্প্রতি সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্য প্রশাসন দ্রুত জমি চিহ্নিতকরণের কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর হাতে বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণ এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য মোট ১৪২.৭৯ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে কোচবিহারে ২২.৯২৫ একর, জলপাইগুড়িতে ৩৫.১৬৫ একর, দার্জিলিং-এ ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর, মালদহে ১০.৯০ একর, মুর্শিদাবাদে ৩৮.৮০৫ একর, নদিয়ায় ০.৫৫ একর এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ২.৬ একর জমি রয়েছে। একদিকে বিএসএফ-এর জন্য এই বিপুল পরিমাণ জমি হস্তান্তর এবং অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কড়া নির্দেশিকা— এই দুইয়ের প্রভাবে আগামী দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা এক নতুন রূপ নিতে চলেছে।