অডিটহীন পুরুলিয়ার হাসপাতালগুলিতে চরম অব্যবস্থা, ফাইল খুলে তাজ্জব বিধায়করা

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে অডিট বা পুনর্নবীকরণ হয়নি পুরুলিয়া জেলার হাসপাতালগুলির রোগী কল্যাণ সমিতির। সম্প্রতি রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের নির্দেশে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক শুরু হতেই এই নজিরবিহীন আর্থিক ও পরিকাঠামো গত অনিয়ম সামনে এসেছে। চলতি মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে এই বৈঠক শেষ করার ডেডলাইন থাকায় পুরুলিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে তৎপরতা চলছে। তবে দীর্ঘদিন পর বিরোধী বিজেপি বিধায়করা এই বৈঠকে অংশ নিতেই হাসপাতালের বেহাল দশা, নোংরা পরিবেশ ও প্রশাসনিক উদাসীনতার বাস্তব চিত্রটি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
বাস্তব চিত্র ও পরিকাঠামোগত বেহাল দশা
পাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে যোগ দিয়ে হাসপাতালের চরম দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয় বিধায়ক। হাসপাতালের প্রবেশপথ আগাছায় ভরা এবং পুরো চত্বর আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে, যা বর্ষায় কীটপতঙ্গের উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের ভবনটি ভাঙাচোরা এবং ফাটলে ভরা হওয়ায় বর্ষায় ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়ার সমস্যায় ভুগছেন রোগীরা। এছাড়া সেখানে তীব্র কর্মীসংকটও রয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও, যেখানে শয্যাসংকটের পাশাপাশি চরম অপরিচ্ছন্নতা ও দুর্গন্ধের মধ্যে রোগীরা চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে বান্দা ও কুশটাড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ঝালদা ১ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বৈঠকেও একই রকম অব্যবস্থার ছবি ধরা পড়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই অচলাবস্থার মূল কারণ হলো বাম আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে রোগী কল্যাণ সমিতিগুলির কোনো পুনর্নবীকরণ বা আর্থিক অডিট না হওয়া। শাসক দলের একক নিয়ন্ত্রণের কারণে অতীতে বিরোধীদের এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছিল, যার ফলে জবাবদিহিতার অভাব তৈরি হয় এবং সমিতির কোনো দাবি বা সিদ্ধান্তই বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
এর ফলস্বরূপ, জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে বর্তমান সরকারি নির্দেশে সমস্ত দলের বিধায়কদের যুক্ত করায় এখন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করে ব্লক ও জেলা স্তরে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই জট কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোই এখন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।