৩ হাজার টাকা ভাতার অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা, ৩ জুনের মধ্যেই মিলবে সুবিধা!

৩ হাজার টাকা ভাতার অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা, ৩ জুনের মধ্যেই মিলবে সুবিধা!

রাজ্যের মহিলা কল্যাণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১ জুন থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক ভাতা পাবেন। তবে এই সর্বোচ্চ অঙ্কের সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১ জুন থেকে পরবর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত এই প্রকল্পের ফর্ম ফিলআপের কাজ চলবে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন করার সুযোগ থাকছে। এমনকি সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম ফিলআপ করানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২ জুনের মধ্যে যারা ফর্ম পূরণ করবেন, তারা ৩ জুন থেকেই ৩ হাজার টাকা হারে ভাতা পাওয়া শুরু করবেন। তবে ৩ মাসের মধ্যে আবেদন করলে এই সুবিধা মিললেও, ২ জুনের পর আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভাতার পরিমাণ হতে পারে প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা।

কড়াকড়ি নিয়ম ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের সংকেত

নতুন এই প্রকল্প চালুর পেছনে রাজ্য প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত ও যোগ্য সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পূর্ববর্তী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো বা বেআইনি প্রাপক টাকা পাচ্ছিলেন, যা নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু হলেই পুরোনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে নতুন এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে বেশ কিছু কঠোর নিয়মাবলী কার্যকর করা হচ্ছে।

সরকারি বা সরকার পোষিত কোনো চাকরিজীবী এই ভাতার আওতায় আসবেন না। এছাড়া, যারা আয়করের (ইনকাম ট্যাক্স) আওতায় পড়েন, তারাও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। আগামীতে রাজ্যবাসীর ‘ফ্যামিলি ডেটা’ বা পারিবারিক আয়ের তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই বাছাইয়ের কাজ আরও জোরদার করা হবে।

জাতীয়তাবাদ ও পরিচয়পত্রের ওপর জোর

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয় রাষ্ট্রবাদী এবং আর্থিকভাবে দুর্বল নাগরিকরাই পাবেন। যারা ভারতীয় নন, তারা কোনোভাবেই এই টাকা পাবেন না। তড়িঘড়ি না করে সবাইকে সময় নিয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২ কোটিতে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ পরিষেবা সমান্তরালভাবে চালু থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *