ভেস্তে যাচ্ছে যুদ্ধবিরতি, মার্কিন হামলায় ফের কেঁপে উঠল ইরানের বন্দর আব্বাস!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সাময়িক উত্তেজনা প্রশমনের পর ফের নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে বৃহস্পতিবার ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকার একটি সামরিক ঘাঁটিতে বড়সড় এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গত কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির পর এই আকস্মিক হামলায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরি হয়েছে।
হামলার কারণ ও মার্কিন দাবি
মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি ছিল। মূলত আত্মরক্ষার তাগিদেই এই এয়ার স্ট্রাইক চালানো হয়েছে। হামলার সময় মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক ঘাঁটিকে নিশানা করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করেছে। উল্লেখ্য, এটি গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ওপর আমেরিকার দ্বিতীয় বড় হামলা। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দক্ষিণ ইরানে মিসাইল লঞ্চিং প্যাড এবং হরমুজ প্রণালীতে থাকা ইরানি নৌবাহিনীর দুটি বোট ধ্বংস করেছিল।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে বন্দর আব্বাস এলাকার পূর্বদিকে পরপর তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পরপরই ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বেশ কয়েক মিনিট ধরে আকাশে গুলি বর্ষণ করে। ইরান সরকার এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে এই হামলায় সুনির্দিষ্ট কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও তদন্তাধীন থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি তেহরান।
সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীর এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং জরুরি স্বাস্থ্য চিকিৎসা সামগ্রীর সংকটের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুই দেশের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।