১৯৭৮ সালের পর প্রথমবার! যানজট ও নিরাপত্তা এড়াতে রেড রোড ছেড়ে ব্রিগেডে ইদের ঐতিহাসিক নমাজ

১৯৭৮ সালের পর প্রথমবার! যানজট ও নিরাপত্তা এড়াতে রেড রোড ছেড়ে ব্রিগেডে ইদের ঐতিহাসিক নমাজ

রাজনৈতিক জনসভা কিংবা কালজয়ী সব বৈঠকের সাক্ষী কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড এবার এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অধ্যায়ের সাক্ষী হলো। দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর রেড রোডের পরিবর্তে ব্রিগেডের বিশাল চত্বরে অনুষ্ঠিত হলো ইদের প্রধান নমাজ। ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী মাঠে ইদের এত বড় জামাত অনুষ্ঠিত হলো। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর নেওয়া কিছু সুনির্দিষ্ট নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়েছে।

নিরাপত্তা ও জনভোগান্তি এড়ানোর সিদ্ধান্ত

কলকাতার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক রেড রোড দিয়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। এই রাস্তার দু’ধারে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ফুটবল ক্লাব এবং পূর্ব ভারতের সেনার সদর দফতর (ফোর্ট উইলিয়াম)। এছাড়া বিধানসভা, কলকাতা হাইকোর্ট ও রাজভবনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তা এটি। প্রতি বছর ইদের দিন এখানে কলকাতা ও জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ নমাজ পড়তে আসতেন, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে স্তব্ধ হয়ে থাকত মধ্য কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা।

সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এই এলাকায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে গত বছরই রেড রোডে ইদের জামাত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল প্রশাসন। বিকল্প জায়গা খুঁজে নেওয়ার সেই নির্দেশিকা মেনেই এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাস্তায় নমাজ বন্ধের নীতি এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নতুন রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশিকায় কলকাতার রাজাবাজার, তিলজলা বা পার্ক সার্কাসের মতো জনবহুল এলাকার রাস্তায় জুম্মার নমাজ পড়া ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। ভিড় সামাল দিতে অনেক মসজিদে শিফটিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মৌলানা শাহবুদ্দিন রাজভী। তাঁর মতে, রাস্তায় নমাজ পড়া শরিয়ত সম্মত নয়।

সামগ্রিক জনস্বার্থ, যানজট মুক্তি এবং কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল বজায় রাখতেই এই স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। কলকাতার সংখ্যালঘু সমাজও এই নতুন ব্যবস্থার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে উৎসবের পবিত্রতা বজায় রেখেই সকাল থেকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ইদের নমাজে শামিল হয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *