হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অভিযান, ধ্বংস ৪ ইরানি ড্রোন ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অভিযান, ধ্বংস ৪ ইরানি ড্রোন ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে বড়সড় সামরিক পদক্ষেপ নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত এলাকায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন ধ্বংস করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই ড্রোনগুলি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যার ফলে সেগুলিকে গুলি করে নামানো হয়।

সামরিক ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত

ড্রোন ধ্বংসের পাশাপাশি ইরানের বন্দর আব্বাসের একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকেও নিশানা করেছে মার্কিন বাহিনী। অভিযোগ, সেখান থেকেই পঞ্চম একটি ড্রোন ওড়ানোর প্রস্তুতি চলছিল। চলতি সপ্তাহে এটি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার দ্বিতীয় ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার আবহে এই সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের অর্থনীতি ও পরমাণু নীতি নিয়ে ট্রাম্পের হুঙ্কার

এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি দাবি করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নে ইরানের অর্থনৈতিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। পরমাণু অস্ত্র প্রসারের বিষয়ে ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই জলপথে কোনো দেশের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বরদাস্ত করা হবে না। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসতে রাজি হলেও, সেই ইউরেনিয়াম রাশিয়ার বা চীনের হাতে না যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও আমেরিকা সতর্ক রয়েছে। শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার টেবিলে দুই দেশের অবস্থান বিপরীতমুখী হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি আপাতত অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *