অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে বড় বদল, কঠোর যাচাইয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ তালিকা তৈরির উদ্যোগ রাজ্য সরকারের

নতুন রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার কঠোর যাচাই পদ্ধতির ওপর জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই নতুন নিয়ম ও কড়া যাচাইয়ের ফলে বিদ্যমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি রোধে কঠোর নজরদারি
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পূর্ববর্তী প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, যার ফলে প্রাপকদের তালিকায় অনেক অযোগ্য ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। সেই ভুল সংশোধনে এবার প্রতিটি পরিবারের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, প্রকৃত ও যোগ্য মহিলারাই যেন সরকারি এই অনুদান পান। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা চালু হলে সংশ্লিষ্ট মহিলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি মহিলাকে নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
সরকার সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আবেদন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদী রেখেছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণের জন্য মোট ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীরা অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া, যারা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে আসামর্থ, তাদের সহায়তায় সরকারি আধিকারিকেরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত মহিলারা আগের মতোই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, কোনো প্রকল্পের ভাতাই আপাতত বন্ধ হচ্ছে না। যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।