শুধু নাম-ঠিকানা নয়! অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে কোন কোন তথ্য চাইছে সরকার?

শুধু নাম-ঠিকানা নয়! অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে কোন কোন তথ্য চাইছে সরকার?

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল নতুন বিজেপি সরকার। মহিলাদের অ্যাকাউন্টে মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার লক্ষ্যে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ইতিমধ্যেই এই ফর্ম ডাউনলোড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্মে আবেদনকারীদের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা এই প্রকল্পের পরিধি এবং যোগ্যতার মাপকাঠি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আবেদন করতে লাগবে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অত্যন্ত বিস্তারিত পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে হবে। ফর্মে পরিবারের প্রধানের নাম, জন্ম তারিখ, রেশন কার্ড ও আধার নম্বর, ঠিকানা এবং যোগাযোগের নম্বরের পাশাপাশি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ ও আইএফএসসি কোড উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া সব সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা কেন্দ্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা এবং স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। এমনকি পরিবারের শিশুদের স্কুলের নামও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।

পারিবারিক স্বচ্ছলতা যাচাই ও আইনি শর্তের কড়া নজরদারি

এবারের ফর্মে আবেদনকারীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং আইনি অবস্থান খতিয়ে দেখার জন্য একাধিক সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখা হয়েছে। আবেদনকারীর বাড়িতে ৩ বা তার বেশি পাকা ঘর রয়েছে কি না, চার চাকার গাড়ি আছে কি না বা মোট জমির পরিমাণ কত, তা স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের কেউ আয়কর বা পেশাগত কর দেন কি না, কোনো সদস্য মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, পুর বা পঞ্চায়েত প্রতিনিধি কি না এবং কেউ পেনশন পান কি না, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ফর্মে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আবেদনকারী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী সার্টিফিকেট পাওয়ার আবেদন করেছেন কি না এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার ট্রাইবুনালে তাঁর নাম বিচারাধীন আছে কি না, তা জানতে চাওয়া। এই শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করার ফলে বহু আবেদনকারীর আইনি ও নাগরিকত্বগত অবস্থান এই প্রকল্পের যোগ্যতা নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকল্পের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করাই এই পদক্ষেপের মূল কারণ। তবে ফর্মে থাকা কড়া শর্তাবলীর কারণে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় অংশের আবেদনকারী স্ক্রিনিংয়ের মুখে পড়তে পারেন। করদাতা, জনপ্রতিনিধি বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তির মালিকদের বাদ দিয়ে প্রকৃত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের কাছেই এই সুবিধা পৌঁছাবে। অন্যদিকে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং ট্রাইবুনালের বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতে রাজ্যে নতুন আইনি ও সামাজিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, তাড়াহুড়ো না করে আবেদনকারীরা যেন সময় নিয়ে নির্ভুলভাবে এই ফর্ম পূরণ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *