মধ্যপ্রাচ্যে ফের মার্কিন গর্জন: হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ঘাঁটিতে বিমান হামলা, বাড়বে কি তেলের দাম?

হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন অঞ্চলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে আমেরিকার সাম্প্রতিক বিমান হামলা এবং পাল্টা ড্রোন ধ্বংসের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ও জল্পনা
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই, এই এলাকায় সামরিক অস্থিরতা তৈরি হলে তা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতির মূল দিকগুলো হলো:
- তেল ও গ্যাসের দামের আশঙ্কা: ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তেলের দাম বাড়লে রান্নার গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে তেলের বাজার বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যেকোনো ধরনের সামরিক খবর দামের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
- ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: গত তিন মাসের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির স্থায়িত্বকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ধারাবাহিক এই সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক উদ্যোগের সফলতাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
- মার্কিন অবস্থান: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং কোনো একক শক্তির নিয়ন্ত্রণ সেখানে গ্রহণযোগ্য নয়। এই কঠোর অবস্থান সংঘাত নিরসনের পরিবর্তে পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেন এই জল্পনা বাড়ছে?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই সংঘাত ইতিমধ্যেই মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এখন হরমুজ প্রণালীর কাছে সামরিক অভিযান এবং ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যানের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়বে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি অনেকাংশেই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে সামরিক সংঘাতের তীব্রতা কতটা বাড়বে এবং তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা বাধাগ্রস্ত হবে তার ওপর।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন বিশ্ব রাজনীতির একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ওপর নির্ভর করছে জ্বালানির বাজারসহ সার্বিক বিশ্ব অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।