অনুপ্রবেশ রুখতে মরিয়া শুভেন্দু সরকার, সীমান্তে বিএসএফকে দেওয়া হলো আরও জমি

অনুপ্রবেশ রুখতে মরিয়া শুভেন্দু সরকার, সীমান্তে বিএসএফকে দেওয়া হলো আরও জমি

আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও নিবিড় ও নিশ্ছিদ্র করতে ফের বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্য সরকার। ট্রিপল ডি অর্থাৎ ‘ডেডেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতিকে সামনে রেখে বেআইনিভাবে ভারতে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিদের রুখতে ইতিমধ্যেই রাজ্যে তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। এবার লুকিয়ে ভারতে প্রবেশ এবং সীমান্ত সংলগ্ন চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর হাতে নতুন পর্যায়ে জমি হস্তান্তর করল নবান্ন। এই দফায় হস্তান্তরিত মোট ১৪২.৭৯ একর জমিতে মূলত বিএসএফ-এর নতুন আউটপোস্ট এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে।

সীমান্ত সুরক্ষায় জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তর

নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে রাজ্যজুড়ে জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই দফায় জলপাইগুড়ি জেলায় ৩৫.১৬৫ একর, মুর্শিদাবাদ জেলায় ৩৮.৮০৫ একর, কোচবিহার জেলায় ২২.৯৫ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর এবং মালদহ জেলায় ১০.৯০ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দার্জিলিং জেলায় ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুর জেলায় ২.৮৪ একর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ২.৬ একর এবং নদিয়ায় ০.৫৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

অচলাবস্থা কাটিয়ে জাতীয় নিরাপত্তায় বড় লক্ষ্য

অতীতে তৃণমূল সরকারের আমলে জমি জট ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের কারণে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া বা আউটপোস্ট তৈরির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে বেশ কিছু জায়গায় সীমান্ত সুরক্ষার কাজ থমকে ছিল। তবে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই অচলাবস্থা কাটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ৪৫ দিনের মধ্যে মোট ৬০০ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, এই দফার ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর সেই ডেডলাইন পূরণের পথেই বড় অগ্রগতি। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা আগামী দিনে আরও বেশি সুরক্ষিত হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *