বন্ধের মুখে কি রাজ্যের বহু মদের দোকান, বিভ্রান্তি কাটাতে আবগারি দফতরের দ্বারস্থ ব্যবসায়ীরা

রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয়স্থলের কাছাকাছি থাকা মদের দোকানগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। স্কুল, কলেজ ও মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জেরে পুরনো বা বর্তমানে চালু থাকা দোকানগুলিও বন্ধ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে মদের খুচরো ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উৎকণ্ঠা কমাতে রাজ্যস্তরের মদ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বুধবার বিকেলে আবগারি দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মিলিত হন।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও সরকারি অবস্থান
বৈঠক সম্পন্ন হলেও আবগারি দফতরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের কোনও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবগারি আধিকারিকরা মৌখিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সাধারণত বর্তমান দোকানগুলির ওপর এই নিয়মের প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে আনুষ্ঠানিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা লিখিত নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত এই নিশ্চয়তা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, নতুন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ গঠন ও শপথগ্রহণের আগে এই সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশের সম্ভাবনা বেশ কম। ফলে ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্ক বজায় রয়েছে।
লাইসেন্স নবীকরণ ও ভবিষ্যতের প্রভাব
বর্তমানে রাজ্যে মদের দোকানগুলির লাইসেন্স প্রতি আর্থিক বছরে (১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ) নবীকরণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর ইতিমধ্যেই কিছু এলাকার স্থানীয় আবগারি আধিকারিকরা ব্যবসায়ীদের তাঁদের দোকানের আশপাশে থাকা স্কুল, কলেজ ও মন্দিরের তালিকা প্রস্তুত রাখতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। এর পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা সামাজিক ক্লাবের বারের ক্ষেত্রেও এই এক কিলোমিটারের নিয়ম প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা মেলেনি। সরকারের এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে মদের ব্যবসা পরিচালনায় বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।