আম-জাম-আপেল তো অনেক হলো, এবার স্বাদ বদলাতে পাতে রাখুন এই ৪ দেশি ফল!

আম-জাম-আপেল তো অনেক হলো, এবার স্বাদ বদলাতে পাতে রাখুন এই ৪ দেশি ফল!

রোজকার খাদ্যতালিকায় ফল রাখা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে পেয়ারা, আপেল, আম কিংবা তরমুজের মতো চেনা ফলের ভিড়ে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই কিছু খাঁটি দেশি ফলের কথা। এককালে বাঙালির গৃহস্থের বাগানে সচরাচর দেখা মিললেও, নগরায়ণের জেরে আজ এরা অবহেলিত। অথচ স্বাদ এবং পুষ্টিগুণে এই ফলগুলো অনন্য। বর্তমানে সচেতনতার অভাবে হারিয়ে যেতে বসা এমনই ৪টি স্বল্প-পরিচিত ফলের পুষ্টিগুণ ও কার্যকারিতা নিচে আলোচনা করা হলো।

রামফল ও করমচার পুষ্টিগুণ

আতার দূর সম্পর্কের আত্মীয় রামফল দেখতে অনেকটা হৃষ্টপুষ্ট টমেটোর মতো। এর পুরুষ্টু খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা শাঁস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে অসাধারণ স্বাদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, টক-মিষ্টি স্বাদের করমচা একসময় খুবই জনপ্রিয় ছিল। শুষ্ক গরমে সহজে বেড়ে ওঠা এই ছোট লাল-সাদা ফলে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন সি রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি কাঁচা নুন দিয়ে কিংবা আচার বানিয়েও খাওয়া যায়।

লাসোদা ও ফলসার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ইন্ডিয়ান চেরি নামে পরিচিত লাসোদা ফলটি দেখতে অনেকটা ডুমুরের মতো। রাজস্থানে এর ফলন বেশি হলেও এটি শরীরের প্রদাহ এবং শ্বাসকষ্ট কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ফল দিয়ে সুস্বাদু আচার ও তরকারি রান্না করা হয়। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন ফল ফলসা মফঃস্বলে এখনও কিছু পরিমাণে পাওয়া যায়। গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতে ফলসার শরবত দারুণ ভূমিকা পালন করে।

বিলুপ্তির কারণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব

ফ্ল্যাট সংস্কৃতির বিস্তার এবং জায়গার অভাবে এই সমস্ত ফলের গাছ আজ বিলুপ্তির পথে। তবে স্বল্প-পরিচিত হওয়ার কারণে এই গাছগুলো সাধারণত প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠে এবং এদের চাষে কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। ফলে এগুলোর খাদ্যগুণ সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ থাকে। বাজার থেকে সুপারফুড বা বিদেশি ফল কেনার পরিবর্তে স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছ থেকে এই দেশি ফলগুলো কিনলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *