আমেরিকার কাছে ইরানের কড়া শর্ত, হরমুজ প্রণালীতে শান্তি ফেরাতে নয়া খসড়া প্রস্তাব তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। মুখোমুখি বৈঠক ও টেলিফোনে বারংবার কথোপকথনের পরেও দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতের ধিকিধিকি আগুন পুরোপুরি নেভেনি। এই আবহে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির একটি নতুন খসড়া সামনে এসেছে। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির বদলে আমেরিকার সামনে অত্যন্ত কঠিন এবং সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।
নয়া খসড়ায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি
ইরানের পক্ষ থেকে পেশ করা নতুন খসড়া প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সমস্ত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর যে আধিপত্য বা পাহারাদারি চলছে, তা সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের মূল লক্ষ্য হলো তাদের বন্ধু দেশগুলির বাণিজ্য জাহাজ যেন নির্বিঘ্নে ইরানি বন্দরে পৌঁছাতে পারে এবং একই সাথে ইরানের নিজস্ব জাহাজগুলিও কোনো বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করতে পারে। এই সমস্ত শর্ত মেনে নিলে ইরান হরমুজ প্রণালীকে পূর্বের স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ধমনী হিসেবে পরিচিত।
চলমান সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই শান্তি প্রস্তাবের আলোচনার সমান্তরালেই দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রাগার এবং ইরান রেভোলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) একটি নৌকায় মার্কিন হামলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সমুদ্রের তলদেশে মাইন পোঁতার কাজ রুখতে আত্মরক্ষার্থেই তারা এই পদক্ষেপ করেছে। পালটা জবাবে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে মার্কিন ড্রোন গুলি করে নামায় এবং একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় আইআরজিসি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত না হলেও এটি আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আমেরিকা যদি এই শর্ত নাকচ করে দেয়, তবে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরানের এই নয়া শর্ত ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত মেনে নেয় কি না, তার ওপরেই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।