এবার ভবানীপুর থানায় এফআইআর, সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে আরও বাড়ল অভিষেকের অস্বস্তি!

এবার ভবানীপুর থানায় এফআইআর, সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে আরও বাড়ল অভিষেকের অস্বস্তি!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি অস্বস্তি আরও বাড়ল। বিধাননগর সাইবার থানার পর এবার কলকাতার ভবানীপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি নতুন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অর্ণবকান্তি দাস নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা এই অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় সংহতিকে বিঘ্নিত করতে পারে। পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযোগের সাথে সামাজিক মাধ্যমের সেই পোস্টের কপিও জমা দেওয়া হয়েছে এবং তার ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ মে, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সামাজিক মাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন। অভিযোগকারী অর্ণবকান্তি দাসের মতে, একজন দায়িত্বশীল সাংসদ হিসেবে এই ধরনের পোস্ট অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। এই পোস্টের মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। এর আগে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন বিজেপির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। গত ২৭ এপ্রিল এক জনসভা থেকে বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া তাঁর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার প্রথম এফআইআরটি করেছিলেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনি জটিলতা

পূর্ববর্তী মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে সাময়িক রক্ষাকবচ পেলেও, নতুন করে ভবানীপুর থানায় এই অভিযোগ তাঁর উপর আইনি চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই ধরনের একের পর এক অভিযোগ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী পক্ষ একে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক প্রচার আরও তীব্র করার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, এই আইনি লড়াইয়ের জল কতদূর গড়ায় এবং পুলিশি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তার ওপরেই নির্ভর করছে রাজ্যের শাসক দলের পরবর্তী রণকৌশল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *