আরজি কর কাণ্ডে শুভেন্দুর সরকারকে সব রকমের তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত শান্তনু!

আরজি কর কাণ্ডে শুভেন্দুর সরকারকে সব রকমের তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত শান্তনু!

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং হাসপাতালের সার্বিক দুর্নীতি নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে আরজি কর সংক্রান্ত যেকোনো তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) এই শীর্ষ নেতা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানানোর পর থেকেই তাঁর এই অবস্থান শাসক শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদন্তে সহযোগিতার বার্তা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ

বুধবার আরজি করের ‘হুমকি সংস্কৃতি’ এবং পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেন শান্তনু সেন। তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসক এসপি দাসের নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গ লবির একাধিক চিকিৎসকের মাধ্যমে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কাউন্সিলগুলিতে দুর্নীতির আখড়া তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সমস্ত তথ্যপ্রমাণ তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি, উল্টে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে আরজি করের দুর্নীতি ও খুনের ঘটনার নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়াকে সাধুবাদ জানিয়ে আইএমএ-র এই নেতা তদন্তকারী সংস্থাকে সব রকম নথিপত্র দিয়ে সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

দলের সঙ্গে দূরত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব

আরজি কর আন্দোলনের শুরু থেকেই জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শান্তনু সেন, যার জেরে প্রথমে দলের মুখপাত্রের পদ হারান এবং পরবর্তীতে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর সাসপেনশন তুলে নিয়ে পুনরায় মুখপাত্র করা হলেও, নির্বাচনে শাসক দলের ভরাডুবির পর শান্তনুর এই ‘বেসুরো’ মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে।

নিজের নীরবতার কারণ ব্যাখ্যা করে শান্তনু সেন জানান, সত্য কথা বলার অপরাধে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর চরম মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আরজি করের ছাত্রী তাঁর মেয়ের কেরিয়ার ধ্বংস করার ও ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল, এমনকি বাতিল করা হয়েছিল তাঁর নিজের চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশনও। বাবার কর্তব্য পালন করতেই এতদিন তিনি চুপ ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শান্তনু সেনের এই ডিগবাজি এবং নতুন সরকারের তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস আগামী দিনে আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে এবং এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল আরও কোণঠাসা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *