ওমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিলেন ট্রাম্প!

হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্র ওমান গোপনে ইরানের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে, এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরানের সাথে কোনো রকম সমঝোতায় গেলে ওমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই রুটটি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ওমানের এই গোপন তৎপরতার খবরে নতুন করে চরমে পৌঁছাল।
যে কারণে চটলেন ট্রাম্প
পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সরু জলপথ হরমুজ় প্রণালী। এর এক দিকে ইরান এবং অন্য দিকে ওমান অবস্থিত। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘর্ষের আবহে এই প্রণালীর ওপর একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে তেহরান। সম্প্রতি ইরানের সরকারি টেলিভিশনে দাবি করা হয়, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে যৌথভাবে খাজনা আদায় ও জলপথটি নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। এমনকি এই সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়াও চূড়ান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কয়েক দশক ধরে ওমানের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সাথে এমন গোপন বোঝাপড়ার খবরটিই মার্কিন প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও মার্কিন অবস্থান
মার্কিন ক্যাবিনেটের বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের এই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিলেও ওমানকে কড়া বার্তা দিতে ছাড়েননি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ওমানকে অন্য দায়িত্বশীল দেশগুলোর মতোই আচরণ করতে হবে, অন্যথায় চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে ওমানের ওপর মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের খাতিরে ট্রাম্প পরে কিছুটা সুর নরম করে আশা প্রকাশ করেন যে আমেরিকাকে শেষ পর্যন্ত এমন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ় প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের, বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি লাইফলাইন। আমেরিকা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই প্রণালীর ওপর কোনো নির্দিষ্ট দেশের একতরফা নিয়ন্ত্রণ তারা বরদাস্ত করবে না এবং এর উন্মুক্ততা বজায় রাখতে ওয়াশিংটন যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নজিরবিহীন হুমকির পর বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই হুঁশিয়ারির বিষয়ে ওমানের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।