সিবিএসই খাতা দেখা নিয়ে রাহুলের প্রশ্ন, পাল্টা সাফাই দিল বোর্ড

সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার খাতা দেখার দায়িত্ব একটি বিতর্কিত সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক ও বোর্ডের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকা এই বিষয়ে কোনো যাচাই ছাড়াই কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। রাহুলের সেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের জবাবে এবার পাল্টা সাফাই দিয়ে বিবৃতি জারি করেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)।
বরাত পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ও বোর্ডের অবস্থান
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর মূল অভিযোগ ছিল, তেলেঙ্গানায় অতীতে বিতর্কিত ভূমিকা থাকা ‘কোএম্পট এডুটেক’ নামের একটি সংস্থাকে ঘুরপথে সিবিএসই দ্বাদশের ওএমআর ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাতা দেখার বরাত দেওয়া হয়েছে। তবে সিবিএসই সমাজমাধ্যমেই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বোর্ডের দাবি, সাধারণ অর্থনৈতিক বিধি এবং সমস্ত আইনি নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মেনেই এই বরাত দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস আগে, ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট সেন্ট্রাল পাবলিক প্রোকিওরমেন্ট পোর্টালে এই কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বিডিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যোগ্যতা নির্ধারণ করে ওই সংস্থাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
অতীতের বিতর্ক ও সংস্থার যুক্তি
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই কোএম্পট এডুটেক সংস্থার পূর্বনাম ছিল ‘গ্লোবারেনা টেকনোলজিস’। ২০১৯ সালে তেলেঙ্গানার ইন্টারমিডিয়েট বোর্ডের পরীক্ষায় খাতা দেখার দায়িত্বে থাকাকালীন এই সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিরোধীদের দাবি, সংস্থার সিইও ভিএসএন রাজুর সঙ্গে উচ্চমহলের প্রভাবশালী যোগাযোগের কারণেই বারবার এরা বরাত পাচ্ছে। অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে কোএম্পট এডুটেকের প্রধান রাজু জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত যোগ্যতা প্রমাণ এবং সর্বনিম্ন পরিষেবা মূল্য (এল-১) দেওয়ার কারণেই তাঁরা এই কাজ পেয়েছেন। উপরন্তু, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ সদগোপনকে ডিজিটাল মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।
এসআইটি তদন্তের দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব
সিবিএসই-র এই জবাবে সন্তুষ্ট নন রাহুল গান্ধী। বোর্ডের দেওয়া বিবৃতিকে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ট্যাগ করে তিনি পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাহুলের দাবি, মূল চারটি প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে বোর্ড কেবল দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ জড়িত থাকায় পরীক্ষার্থীদের সত্য জানার অধিকার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং সংস্থার ভূমিকা তদন্ত করতে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। এই বিতর্কের ফলে জাতীয় স্তরের একটি শিক্ষা বোর্ডের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিশ্বস্ততা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনেও তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।