ঈদের খুশিতে ভাসছে কারাগারও, বন্দিদের পাতে পোলাও আর আস্ত মুরগির রোস্ট!

ঈদের খুশিতে ভাসছে কারাগারও, বন্দিদের পাতে পোলাও আর আস্ত মুরগির রোস্ট!

পবিত্র ঈদের আনন্দ চার দেয়ালের অন্ধকার কোণ থেকেও যেন হারিয়ে না যায়, সেই লক্ষ্যে দেশের সব সংশোধনাগারে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের এলাহি আয়োজন করেছে সরকার। ঈদের দিন সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে কারাগারগুলোতে। সাধারণ দিনের চেনা বন্দিজীবনের আবহ বদলে এবারও বন্দিদের মুখে হাসি ফোটাতে কারা প্রশাসন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশের কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ এই বিশেষ খাদ্যতালিকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত বন্দিদের মানসিক অবসাদ দূর করতে এবং উৎসবের সর্বজনীনতা বজায় রাখতেই প্রতি বছর এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে।

ভিআইপি ও সাধারণ বন্দিদের একই মেনু

কারা প্রশাসনের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী ঈদের দিন সকালে বন্দিদের প্রাতরাশে দেওয়া হয়েছে পায়েস বা সেমাই এবং মুড়ি। তবে দুপুরের খাবারে ছিল রাজকীয় আয়োজন। দুপুরের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বন্দিদের পাতে পড়েছে পোলাও, গরুর মাংস, একটি আস্ত মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, ডিম, কোল্ড ড্রিংকস এবং পান-সুপারি। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে অন্য ধর্মাবলম্বী বন্দিদের জন্য গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে খাসির মাংসের ব্যবস্থা। দুপুরের এই এলাহি ভোজের পর রাতের খাবারেও থাকছে বিশেষত্ব; রাতে বন্দিদের দেওয়া হবে সাদা ভাত, আলুর দম এবং রুই মাছ ভাজা। এই বিশেষ খাবারদাবারের ব্যবস্থা দেশের প্রতিটি কারাগারে কার্যকর করা হয়েছে এবং সাধারণ বন্দি থেকে শুরু করে ভিআইপি বন্দি—সবাই একই খাবার পাচ্ছেন।

মনোরঞ্জন ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিশেষ সুযোগ

খাবারের পাশাপাশি উৎসবের দিনে বন্দিদের মানসিক প্রফুল্লতার জন্য প্রতিটি কারাগারে নিজস্ব সাধ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদের দিন এবং এর পরবর্তী দুই দিন বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এই তিন দিন বন্দিরা চাইলে বাইরে থেকে স্বজনদের পাঠানো খাবারও খেতে পারবেন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রাক্তন মন্ত্রী, এমপি, উচ্চপদস্থ আমলা এবং হেভিওয়েট নেতাকর্মীসহ ২০০ জনের বেশি ‘ভিআইপি’ আসামি বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন, যাদের মধ্যে ১৬১ জন প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তবে সামগ্রিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে ৬০ জন বন্দির নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকায় তাঁদের ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে অত্যন্ত কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তা সত্ত্বেও উৎসবের দিনে খাবারের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না রেখে সবাইকে একই কাতারে শামিল করেছে কারা প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *