তীব্র গরমে ফ্রিজকে টেক্কা দিচ্ছে মাটির কলসি, তুঙ্গে মৃৎশিল্পীদের লক্ষ্মীলাভ

তীব্র গরমে ফ্রিজকে টেক্কা দিচ্ছে মাটির কলসি, তুঙ্গে মৃৎশিল্পীদের লক্ষ্মীলাভ

জ্যৈষ্ঠের চড়া রোদ আর তীব্র তাপপ্রবাহে জঙ্গলমহলসহ রাজ্যের সর্বত্র মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তাঘাট শুনশান হয়ে পড়ছে এবং তৃষ্ণা মেটাতে সর্বত্রই খোঁজ পড়ছে ঠান্ডা জলের। আধুনিক যুগে ঘরে ঘরে রেফ্রিজারেটর জায়গা করে নিলেও, মাটির কলসির প্রাকৃতিক ঠান্ডা জলের স্বাদ ও গুণের কাছে তা যে আজও নস্যি, তা প্রমাণ করছে চলতি মরশুমের বাজার দর। জঙ্গলমহলের গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে মফস্বলের শহরবাজার সর্বত্রই এখন মাটির কলসি কেনার হিড়িক পড়েছে। বাঁকুড়ার সারেঙ্গা ব্লকের বানপুর ও নেতুরপুরের কুম্ভকার পাড়ার মৃৎশিল্পীদের তৈরি পাত্রের চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া।

চাহিদা বৃদ্ধির কারণ ও আধুনিকতার ছোঁয়া

চলতি বছরে গরমের তীব্রতা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি, যার ফলে দোকান খোলার পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় জমছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে মৃৎশিল্পীরাও কাজে নতুনত্ব এনেছেন। এখন সাধারণ কলসির পাশাপাশি বাজারে রঙ-বেরঙের নকশা করা সাজানো হাঁড়ি এবং ‘ট্যাপ’ বা কল লাগানো কলসির বিক্রি বেড়েছে। ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডা জল পানের ফলে গলা ব্যথা বা সর্দি-কাশির ভয় থাকে, কিন্তু মাটির কলসির জল প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠান্ডা হয়। এর পাশাপাশি দিন দিন যেভাবে বিদ্যুতের বিল বাড়ছে, তাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির কাছে বিদ্যুৎ খরচ না করে জল ঠান্ডা রাখার এটাই সেরা প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির তৈরি কলসির গায়ে থাকা অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে জল বাষ্পীভূত হওয়ার সময় যে লীনতাপ গ্রহণ করে, তার ফলেই ভিতরের জল প্রাকৃতিক নিয়মে ঠান্ডা থাকে। এই সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির কারণে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরাও মাটির পাত্রের দিকে ঝুঁকছেন। সময়ের নিয়মে বহু পুরনো অভ্যাস হারিয়ে গেলেও, মাটির সুবাস মাখা এই সাবেকিয়ানা পুরোপুরি মুছে যায়নি। এই চাঙ্গা বাজারের কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ স্বস্তির জল পাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনই দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ভালো লাভের মুখ দেখছেন সারেঙ্গার স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *