হোল্ডিং সেন্টারের পরিসংখ্যান নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে শ্বেতপত্রের দাবি অধীরের

রাজ্যজুড়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য তৈরি হওয়া হোল্ডিং সেন্টারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নির্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি রাজ্য সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অধীরের সাফ বক্তব্য, হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হতে পারে, তবে জনসমক্ষে তার স্বচ্ছ পরিসংখ্যান তুলে ধরা জরুরি।
অনুপ্রবেশকারী ও নির্বাসন নিয়ে শ্বেতপত্রের দাবি
কংগ্রেস নেতা সরাসরি রাজ্য সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রশ্ন করেছেন, এখন পর্যন্ত কতজন অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্যজুড়ে ধরা হয়েছে এবং কতজনকে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি একই ধরনের স্বচ্ছতার দাবি তুলেছিলেন। অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ত্রয়োদশ লোকসভার সদস্য থাকাকালীন তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবানির কাছে বেআইনি পাকিস্তানিদের সংখ্যা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন, রাজ্যে ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের নির্বাসনের বিস্তারিত তথ্য শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করার জন্য।
হোল্ডিং সেন্টারের প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
আসামের এনআরসি প্রক্রিয়ার আদলে এবার বাংলাতেও তিনটি জেলায় তিনটি হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। মূলত আইনত বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার জন্যই এই সেন্টারগুলো তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই কেন্দ্রগুলোতে আটক ব্যক্তিদের বিএসএফের সহায়তায় আইনি নিয়ম মেনে বাংলাদেশে ফেরত বা ‘ডিপোর্ট’ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়বে। সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতার বিপরীতে বিরোধীদের এই পরিসংখ্যানের দাবি আগামী দিনে সীমান্ত সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।