স্বাস্থ্যসাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত, চিকিৎসার পরিধিতে এবার আমূল বদল বাংলায়!

স্বাস্থ্যসাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত, চিকিৎসার পরিধিতে এবার আমূল বদল বাংলায়!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক বড়সড় বদল আসতে চলেছে। পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের জায়গায় রাজ্যে এবার পুরোদমে চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা। দুই প্রকল্পেই বছরে পরিবার পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও, কভারেজ এবং সুবিধার দিক থেকে এই দুই কার্ডের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বিজেপি বিধায়ক তথা চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্যসাথীকে ভালো বললেও, আয়ুষ্মান ভারতকে আরও উন্নত ও কার্যকরী বলে দাবি করেছেন।

কভারেজের বিস্তৃতি ও ভৌগোলিক সুবিধা

স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি হলো চিকিৎসার পরিধি এবং ভৌগোলিক সীমানা। স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা মূলত রাজ্যের হাসপাতালগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অন্য দিকে, আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের মাধ্যমে উপভোক্তারা দেশজুড়ে যেকোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসা করাতে পারবেন। এ ছাড়া, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা পেতে যেখানে কিছুটা সময় লাগত, সেখানে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড চালু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই রোগীরা চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

চিকিৎসার অতিরিক্ত খরচ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি আনুষঙ্গিক অনেক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই স্কিমে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ১০ দিন আগে থেকে শুরু করে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত সমস্ত চিকিৎসার খরচ পাওয়া যায়। এর মধ্যে অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া, ফিজিওথেরাপি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচও শামিল রয়েছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে থাকাকালীন নন-ইনটেনসিভ ও ইনটেনসিভ কেয়ার (ICU) সার্ভিস, ডায়গনস্টিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার খরচ এবং মেডিক্যাল ইমপ্ল্যান্টের খরচও এই কার্ডের আওতায় মিলবে। এই প্রকল্পে সরকারি রেট নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে রোগীদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

কোন কোন রোগের চিকিৎসায় ফারাক

চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে সমস্ত অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার বেশি প্রয়োজন হয়, তার একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যসাথীতে মিলত না। যেমন— অ্যাপেনডিক্স, গল ব্লাডারে স্টোন, চোখের ছানি অপারেশন, হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, হাঁটু প্রতিস্থাপন (নি রিপ্লেসমেন্ট) এবং প্রসূতি মায়ের চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথীর আওতাভুক্ত ছিল না। স্বাস্থ্যসাথীতে মূলত হার্টের স্টেন্ট বসানোর মতো জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হতো, যার পেছনে পূর্ববর্তী সরকারের রাজনৈতিক কৌশল ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিপরীতে, আয়ুষ্মান ভারতে এই সমস্ত সাধারণ ও জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি কার্ডিওলজি (ওপেন হার্ট সার্জারি, পেসমেকার, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি), অঙ্কোলজি (ক্যানসারের কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন), নিউরোসার্জারি (মস্তিষ্ক ও স্পাইন সার্জারি), নেফ্রোলজি (किডনি প্রতিস্থাপন ও ডায়ালাইসিস), অর্থোপেডিক (জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট), গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি এবং পুড়ে যাওয়ার চিকিৎসার মতো জটিল রোগের সম্পূর্ণ কভারেজ পাওয়া যাবে। ফলে এই স্বাস্থ্য কার্ডের পরিধি সাধারণ মানুষের জন্য আরও বেশি সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *