১ জুন থেকেই দিতে হবে তিন হাজার টাকা, রাজ্য রাজনীতিতে জোর দাবি তুললেন কুণাল

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প। ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক উপভোক্তাকে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার জোরালো দাবি তুললেন কুণাল ঘোষ। নতুন এই সরকারি প্রকল্পের নিয়মের জট ও ফর্মের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই দাবি রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জটিল ফর্মের গেরোয় উপভোক্তারা
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের সুবিধা পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ১২ পাতার এই বিশাল ফর্ম দেখে ঘাবড়ে যাচ্ছেন আবেদনকারীরা। ফর্মে কেবল আবেদনকারীর তথ্যই নয়, বরং তাঁর পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের খুঁটিনাটি বিবরণ চাওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তাঁদের পেশা, আয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ভোটার তালিকা ও রেশন কার্ডের তথ্য থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিমার বিবরণ পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। ফলে তথ্য জোগাড় করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি যেমন বাড়ছে, তেমনই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই জটিলতার মাঝেই কুণাল ঘোষের ১ জুনের মধ্যে টাকা দেওয়ার দাবি প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক চাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কুণাল ঘোষের এই আলটিমেটাম রাজ্য সরকারের ওপর আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া যেখানে এখনও প্রাথমিক স্তরে এবং ফর্মের জটিলতায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত, সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ বিতরণ করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবির ফলে উপভোক্তাদের মনে প্রত্যাশা তৈরি হবে, যা সময়মতো পূরণ না হলে জনমানসে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে এই দাবিকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।