গ্রিন সিটি প্রকল্পে ৪০ লক্ষ টাকার কারচুপি, আরামবাগে গ্রেপ্তার পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার-সহ ৩

গ্রিন সিটি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল আরামবাগ। প্রকল্পের টাকা নয়ছয় এবং কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে আরামবাগ পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ার ও সুপারভাইজারসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার মানস কুন্ডু, ইলেক্ট্রিক্যাল সুপারভাইজার কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় এবং ঠিকাদার স্বরভানু ঘোষ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে এই ধরনের দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সোলার প্যানেলের নামে ভুয়া বিলের ফাঁদ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড থাকাকালীন গ্রিন সিটি প্রকল্পে মোট ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, ১২টি স্কুলে সোলার প্যানেল বসানোর নামে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বিল তোলা হয়েছে। অথচ বাস্তবে ওই স্কুলগুলোতে কোনো সোলার প্যানেল বসানোর কাজই হয়নি। তৎকালীন বোর্ডের বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই তিনজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই বর্তমান পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভাণ্ডারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই বুধবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রশাসনিক অস্বস্তি
পুরসভার এই দুর্নীতির ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর তরজা। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ এই ঘটনাকে হিমশৈলের চূড়া বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের জালে পড়া এই তিন ব্যক্তি কেবল চুনোপুঁটি। প্রকৃত দুর্নীতির তদন্তে তৎকালীন পুর চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি রাঘব বোয়ালদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন তিনি। একদিকে সরকারি প্রকল্পের টাকায় ব্যক্তিগত পকেট ভারি করার অভিযোগ এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলায় আরামবাগের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত যত এগোবে, এই দুর্নীতির সাথে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।