ক্ষণিক ঝড়ে লন্ডভন্ড শিলিগুড়ি, ব্ল্যাকআউটের কবলে বিস্তীর্ণ এলাকা

উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক শহর শিলিগুড়িতে আচমকা হানা দিল এক বিধ্বংসী ঝড়। বৃহস্পতিবার রাতে বয়ে যাওয়া এই ক্ষণিকের ঝড়ের দাপটে শহরের একাধিক এলাকা কার্যত লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় কোথাও বিশালাকার গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও গাছ ভেঙে পড়েছে সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটির ওপর। এর ফলে শহরের একটি বিস্তীর্ণ অংশ দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আচমকা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

যানবাহন চলাচল স্তব্ধ এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

ঝড়ের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শহরের ব্যস্ততম জলট্যাঙ্কি মোড় এলাকায়। সেখানে একটি বিশালাকার গাছ উপড়ে রাস্তার ডিভাইডারের রেলিংয়ের ওপর পড়ে যায়। এর ফলে সেবক রোডের ওই গুরুত্বপূর্ণ অংশে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খুব অল্প সময়ের এই ঝড়ে শহরের এমন বিপর্যস্ত দশা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকেও গাছ ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর আসতে শুরু করে।

রাজনীতি ভুলে একযোগে উদ্ধারকাজে মেয়র ও বিধায়ক

শহরের এই সংকট মুহূর্তে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগের খবর পেয়েই রাতেই পরিস্থিতি পরিদর্শনে জলট্যাঙ্কি মোড়ে হাজির হন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি ঘটনাস্থল থেকেই সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করেন পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেবের সাথে। দ্রুত জনজীবন স্বাভাবিক করার বিষয়ে দুজনের মধ্যে সদর্থক আলোচনা হয়। বিধায়কের ফোন পেয়ে কালবিলম্ব না করে রাতেই পুরসভার আধিকারিক ও কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মেয়র গৌতম দেব।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই পুরসভার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। উপড়ে পড়া গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। যৌথ প্রচেষ্টায় গাছ সরিয়ে আপাতত সেবক রোডের জলট্যাঙ্কি মোড়ে একমুখী যান চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তবে শহরের উপড়ে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি সংস্কার এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার কাজ এখনও জারি রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *