হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ওয়াশিংটনের

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ওয়াশিংটনের

হরমুজ প্রণালীতে ইরানগামী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি সক্ষম। গাম্বিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ইরানের বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করলে মার্কিন বাহিনী সেটির ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়। এই ঘটনার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর কঠোর শর্তারোপ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির চিরস্থায়ী সমাপ্তি। তবে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান বার্তা আদান-প্রদান সত্ত্বেও চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ শিথিল করার ইঙ্গিত দিলেও, ইরানের শীর্ষ নেতারা এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালী পরিচালনার বিষয়টি কেবল ইরান এবং ওমানের অভ্যন্তরীণ বিষয়, যেখানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।

এই সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এদিকে, লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রযাত্রা এবং দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলার ঘটনা আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একদিকে আলোচনার টেবিল, অন্যদিকে সীমান্তে সামরিক তৎপরতা—এই দ্বিমুখী পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ব্যবস্থা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *