‘খুঁজে খতম করো’: মানুষের সাহায্য ছাড়াই শত্রু নিধনে সক্ষম চিনের মারণ ড্রোন ‘অ্যাটলাস’!

‘খুঁজে খতম করো’: মানুষের সাহায্য ছাড়াই শত্রু নিধনে সক্ষম চিনের মারণ ড্রোন ‘অ্যাটলাস’!

মানুষ ছাড়াই যুদ্ধের ময়দানে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ, চীনের আতঙ্কের নাম ‘এটলাস’ ড্রোন সোয়ার্ম!

যুদ্ধের কৌশল ও প্রযুক্তিতে এক অভাবনীয় ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে চীন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এটলাস’ নামক এক অত্যাধুনিক ড্রোন সোয়ার্ম সিস্টেমের প্রদর্শন করেছে, যা কোনো ধরনের মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই শত্রু শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম। চীন ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন দ্বারা উদ্ভাবিত এই সিস্টেমটি যুদ্ধের ময়দানে কার্যত এক নতুন যুগের সূচনা করেছে, যেখানে ড্রোনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

এক অপারেটরে ৯৬ ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ

এই প্রযুক্তির প্রধান শক্তি হলো এর বিশাল কর্মক্ষমতা। মাত্র একজন অপারেটরের সহায়তায় এই সিস্টেমটি কয়েক মিনিটের মধ্যে ৯৬টি ড্রোন আকাশে উড্ডয়ন করতে সক্ষম। প্রতিটি ড্রোন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে একে অপরের সাথে সমন্বয় রক্ষা করে। পরীক্ষার সময় দেখা গেছে, ড্রোনগুলো নকল লক্ষ্যবস্তুর ভিড় থেকে আসল কমান্ড ভেহিকল শনাক্ত করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভুল হামলার জন্য ডেটা সরবরাহ করে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন থেকে শুরু করে হামলা পরিচালনার প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে, যেখানে কোনো মানুষের সরাসরি নির্দেশনার প্রয়োজন পড়েনি।

যুদ্ধক্ষেত্রে এর ভয়াবহ প্রভাব

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ড্রোনগুলোর এম্বেডেড এআই অ্যালগরিদম যুদ্ধের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে অত্যন্ত দক্ষ। এর ফলে শত্রুপক্ষ তাদের কৌশল পরিবর্তন করলেও ড্রোনগুলো রিয়েল-টাইমে সাড়া দিতে পারে। কেবল আকাশপথেই নয়, সমুদ্রপথেও চীন এল-৩০ সিরিজের মানবরহিত জাহাজ ব্যবহার করে একই ধরনের স্বয়ংক্রিয় মহড়া পরিচালনা করেছে। মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন এই মারণাস্ত্র মোতায়েন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি প্রথাগত সামরিক ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি যুদ্ধের ময়দানকে আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ভয়াবহ করে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *