কালীঘাটে মমতার বাসভবনে নজিরবিহীন ধস, মাত্র ২০ জন বিধায়ক আসায় ভেস্তে গেল তৃণমূলের মেগা বৈঠক!

কালীঘাটে মমতার বাসভবনে নজিরবিহীন ধস, মাত্র ২০ জন বিধায়ক আসায় ভেস্তে গেল তৃণমূলের মেগা বৈঠক!

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এক মাস পার হতে না হতেই তীব্র সাংগঠনিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক দলীয় বৈঠক পর্যাপ্ত বিধায়কের অনুপস্থিতির কারণে বাতিল করতে হয়েছে। দলের বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে পরিষদীয় নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মেগা বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। তবে ৮০ জন দলীয় বিধায়কের মধ্যে মাত্র ১৯ থেকে ২০ জন উপস্থিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৈঠকের কোরাম পূরণ হয়নি। বিধায়কদের এমন নজিরবিহীন অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেত্রী নিজের ঘর থেকে বের না হয়েই বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দেন।

নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। সম্প্রতি তৃণমূল নেতাদের দল ছাড়ার এবং দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। এর পাশাপাশি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে নেতাদের ‘চোর চোর’ স্লোগান শুনতে হচ্ছে। দলের শীর্ষ স্তরের নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ক্রমাগত হেনস্থা ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। সুজিত বসুসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে বন্দি, যা দলের নীচুতলার কর্মীদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে।

নেতৃত্বের ওপর উপর্যুপরি হামলা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ

তৃণমূলের এই সাংগঠনিক স্থবিরতার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা। শনিবার সোনারপুরে দলের হেভিওয়েট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার হুগলিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর দলের ভেতরে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে, বৈঠকটি বাতিল নয় বরং আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিধায়কদের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সোমবার রাজ্যজুড়ে ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও অস্তিত্বের সংকট

চলতি নির্বাচনে বিপর্যয় ঘটলেও তৃণমূল কংগ্রেস এখনো ৮০ জন বিধায়ক নিয়ে প্রধান বিরোধী শক্তির অবস্থানে রয়েছে এবং তারা প্রায় ৪০.৮০% ভোট ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা বিজয়ী বিজেপির (৪৫.৮৪%) চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। কিন্তু ভোটের অঙ্কে লড়াইয়ের সুযোগ থাকলেও, নির্বাচনের মাত্র মাসখানের মধ্যেই সাংগঠনিক এই ভাঙন ঘাসফুলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কালীঘাটের মতো সুরক্ষিত ও সর্বোচ্চ দলীয় নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রে বিধায়কদের এই চরম অনীহা প্রমাণ করে যে, দলের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও রাশ ক্রমশ আলগা হয়ে পড়ছে, যা আগামী দিনে তৃণমূলের অস্তিত্বের সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *