নিরাপত্তার ফাঁক স্বীকার করল CBSE, প্রশ্নের মুখে অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা CBSE-র নতুন অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও জল্পনার অবসান ঘটল। অবশেষে বোর্ডের সরকারি মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তা পরিকাঠামোয় বড় ধরনের ত্রুটি বা ‘ভালনারেবিলিটি’ থাকার কথা স্বীকার করে নিল কর্তৃপক্ষ। এতদিন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও প্রযুক্তিগত গাফিলতির বিষয়টি বোর্ড অস্বীকার করে এলেও, সাম্প্রতিককালে সাইবার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে এই ত্রুটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তা ত্রুটির নেপথ্যে প্রযুক্তিগত গাফিলতি
ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ বছরের সাইবার গবেষক নিসর্গ অধিকারীর অনুসন্ধানে প্রথম এই পোর্টালের নিরাপত্তা দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসে। নিসর্গের দাবি ছিল, পোর্টালটি এমনভাবে তৈরি ছিল যে সেখান থেকে সহজেই পরীক্ষকদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, পাসওয়ার্ড রিসেট এমনকি পড়ুয়াদের নম্বর পরিবর্তনের মতো গুরুতর অপরাধও করা সম্ভব ছিল। এছাড়া উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনিরাপদ স্টোরেজে রাখা ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। প্রথমদিকে বোর্ড বিষয়টিকে ‘ডামি সাইট’ বা পরীক্ষার অংশ বলে দাবি করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তি ও ভুল উত্তরপত্র পাঠানোর মতো ঘটনায় বোর্ডের অবস্থান টলে যায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কারের পথে বোর্ড
ক্রমবর্ধমান চাপে পড়ে বোর্ড বর্তমানে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT)-র সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পোর্টালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেছে। চিহ্নিত ত্রুটিগুলি সংশোধন করার পাশাপাশি পেমেন্ট গেটওয়ে ও সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির সাথেও আলোচনা চলছে। এই ঘটনা মূলত কেন্দ্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের সময় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সতর্কতার অভাবকেই সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও বোর্ড এখন এথিক্যাল হ্যাকারদের সহায়তায় সিস্টেম উন্নত করার দাবি করছে, তবে এই ধরনের বড়সড় নিরাপত্তা ত্রুটি ভবিষ্যতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের ওপর কতটা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।