কালীঘাটে মমতার বৈঠকে গরহাজির ৬০ বিধায়ক, দলের অন্দরে কি তবে ক্ষোভের আগুন?

কালীঘাটে মমতার বৈঠকে গরহাজির ৬০ বিধায়ক, দলের অন্দরে কি তবে ক্ষোভের আগুন?

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকে মাত্র ২০ জন বিধায়কের উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে সিংহভাগই রবিবারের এই বৈঠকে গরহাজির থাকায় রাজনৈতিক মহলে নানামুখী জল্পনা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে দলীয় কর্মী খুনের ঘটনা এবং তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন ঘিরে সই জালের তদন্তের আবহে এই বৈঠক বাতিলের ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠক বাতিলের কারণ ও কুণাল ঘোষের যুক্তি

বিকেল ৪টে থেকে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। একে একে কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্রের মতো প্রবীণ নেতৃত্ব এলেও শেষ পর্যন্ত বিধায়কদের সংখ্যা ২০-তেই আটকে যায়। এই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি বৈঠক বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে দলের অন্দরে ভাঙন বা অনাস্থার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বেলেঘাটের বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে বহু বিধায়ক নিজেদের এলাকায় কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছেন। আটক কর্মীদের থানা থেকে ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত থাকায় তাঁরা ফোনে বৈঠক স্থগিতের অনুরোধ করেছিলেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও বিরোধীদের কটাক্ষ

দলীয় স্তরে বিষয়টিকে সাংগঠনিক ব্যস্ততা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হলেও, এই ঘটনা শাসক দলের অন্দরের সমন্বয়হীনতাকে প্রকাশ্যে এনেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে মাত্র ২৫ শতাংশ বিধায়কের উপস্থিতি দলের সুপ্রিমোর নির্দেশ অমান্য করার সমতুল্য কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এদিকে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী শিবির। মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে তৃণমূল বিধায়করা খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। আগামী দিনে এই গরহাজিরাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *