গ্ল্যামার দুনিয়ার অন্ধকার পিঠ, কাজের অভাবে এবার আত্মহত্যার চেষ্টা টেলি অভিনেত্রীর

বিনোদন জগতে আলোর ঝলকানির আড়ালে মানসিক অবসাদ ও তীব্র একাকীত্বের কালো মেঘ যেন গ্রাস করছে একের পর এক প্রতিভাকে। পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী হলো বাংলা টেলিদুনিয়া। এবার কাজের অভাব ও তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌলি দত্ত। তবে সঠিক সময়ে বন্ধুরা তাঁর ফ্ল্যাটে পৌঁছে উদ্ধার করায় বর্তমানে তিনি বিপন্মুক্ত এবং বাড়িতে ফিরেছেন।
তীব্র আর্থিক অনটন ও মানসিক একাকীত্ব
টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়মিত কাজের অভাবই মৌলিকে এই চরম পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে জানা গেছে। কলকাতা শহরে টিকে থাকার ন্যূনতম খরচ এবং ফ্ল্যাটের ইএমআই (EMI) প্রতি মাসে শোধ করতে হয় তাঁকে। এর পাশাপাশি কাটোয়ায় থাকা নিজের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্বও মৌলির কাঁধেই ন্যস্ত। অথচ বর্তমানে তিনি যে প্রজেক্টে যুক্ত আছেন, সেখানে নিয়মত ডেট বা ডাক পাচ্ছিলেন না। একাধিক জায়গায় কাজের খোঁজ করলেও প্রতিবারই তাঁকে পরোক্ষভাবে প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে। কেরিয়ারের শুরু থেকে পারিবারিক চরিত্রে অভিনয় করলেও, নতুন কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। একদিকে বাজারদর, অন্যদিকে আয়ের অভাব— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন অভিনেত্রী।
টেলিদুনিয়ার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ঘটনার দিন এক বন্ধুর সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হওয়ায় তীব্র মানসিক একাকীত্ব থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া এক পাতা ঘুমের ওষুধ একসঙ্গে খেয়ে নেন মৌলি। তাঁর বন্ধুবান্ধবরা দ্রুত বিষয়টি জানতে পেরে ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় বড়সড় বিপত্তি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনাটি গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির চুক্তিভিত্তিক কাজের অনিশ্চয়তা এবং তারকাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ভঙ্গুর অবস্থাকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনেছে। একের পর এক অভিনেতা ও পরিচালকের অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়া এবং আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নেওয়ার প্রবণতা টলিউডের কাজের পরিবেশ ও শিল্পীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করছে।