অভিষেকের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজপথে মমতা, বিধায়ক-অনুপস্থিতির আবহে বাতিলের মুখে কালীঘাটের বৈঠক

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। এই আক্রমণের প্রতিবাদে আগামী মঙ্গলবার কলকাতার রানি রাসমণি রোডে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিনের অবস্থান-বিক্ষোভে বসছেন। একইসঙ্গে, সোমবারেও রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে শাসকদল। তবে এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই রবিবার দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে বিধায়কদের ব্যাপক অনুপস্থিতি এবং ফলস্বরূপ বৈঠক বাতিল হওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে নতুন গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।
বিধায়কদের অনুপস্থিতি ও বৈঠকের ভবিষ্যৎ
গত এক সপ্তাহ আগে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে রবিবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মাত্র ২০ জন বিধায়ক উপস্থিত হওয়ায় বৈঠকটি সাময়িকভাবে বাতিল করতে বাধ্য হয় শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে এই অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অবশ্য ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন। তাঁর দাবি, শনিবার সোনারপুরে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার সকালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার জেরে রাজ্যজুড়ে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিধায়করা নিজ নিজ এলাকায় ব্যস্ত থাকায় বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন এবং শীর্ষ নেতৃত্ব সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
প্রতিবাদের রূপরেখা ও রাজনৈতিক প্রভাব
বৈঠক বাতিল হলেও কালীঘাটে উপস্থিত সীমিত সংখ্যক নেতাদের নিয়ে আলোচনার পর তৃণমূলের আগামী আন্দোলনের রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা, হকার উচ্ছেদ, দলীয় কর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার এবং অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যের প্রতিটি ওয়ার্ড ও এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস।
এর পরদিনই, অর্থাৎ মঙ্গলবার, রানি রাসমণি রোডে মহাধরণায় শামিল হবেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিরোধী শিবিরের আক্রমণ ও দলীয় নেতৃত্বের ওপর হামলার জেরে তৃণমূল মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন তীব্র করতে চাইছে, অন্যদিকে বিধায়কদের বড় অংশের অনুপস্থিতি দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সাংগঠনিক সক্রিয়তার ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করল। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।