অভিষেকের ওপর হামলা কি নিছকই জনরোষ, এবার মুখ খুললেন অর্জুন সিং

সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে শনিবার নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের এই শীর্ষনেতা। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়ার ঘটনার পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি। তৃণমূল এই ঘটনার পিছনে বিজেপির পরিকল্পিত চক্রান্তের অভিযোগ তুললেও, বিরোধী শিবির একে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ‘জনরোষ’ বলেই দাবি করছে।
বিজেপির সাফাই ও জনরোষের তত্ত্ব
হামলার ঘটনায় বিজেপির যোগসূত্রের অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং ও নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অর্জুন সিং দাবি করেছেন, সোনারপুর সফরের সময় সাধারণ মানুষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শাসনকাল ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কারণে সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। একই সুরে সুর মিলিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল একে বিগত ১৫ বছরের ‘বর্বরতা’ ও অভিষেকের অহংকারের ফল বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই, বরং এটি পুরোপুরি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের ফল।
চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ও প্রভাব
পাল্টা আক্রমণে নেমে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, হামলার পর আহত অভিষেকের চিকিৎসা আটকাতে হাসপাতালগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পুলিশকে দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যাতে তাঁকে ভর্তি নেওয়া না হয়। হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে এই সংক্রান্ত হুমকির ফোন এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই হামলাকে সুপরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যকার তিক্ততা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। একদিকে যেমন হাসপাতাল স্তরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠছে, অন্যদিকে বিক্ষোভ ও হামলার এই ঘটনা আগামী দিনে রাজনৈতিক হিংসাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।