শুভেন্দু মন্ত্রিসভার প্রথম বড় সম্প্রসারণ, লোকভবনে ৩৫ মন্ত্রীর শপথ গ্রহণে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ!

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় এক বড়সড় রদবদল ও সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলো। সোমবার লোকভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রাজ্যপাল আরএন রবি এক জমকালো অনুষ্ঠানে নতুন ৩৫ জন মন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান। জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ এবং জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রথমেই নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল। এদিনের সম্প্রসারণে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তবে নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে কার কোন দপ্তর, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
অভিজ্ঞতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের মেলবন্ধন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে অভিজ্ঞতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে মাথায় রেখে উত্তর থেকে দক্ষিণ—সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। কলম ছেড়ে রাজনীতিতে আসা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চ্যাটার্জি এবং নোয়াপাড়া থেকে নির্বাচিত অর্জুন সিংয়ের মতো হেভিওয়েট ও অভিজ্ঞ মুখগুলোকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া স্বপন দাশগুপ্ত, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ এবং দুধকুমার মণ্ডলের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্যাবিনেটে নিয়ে আসায় সরকারের প্রশাসনিক গতিশীলতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক গতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ৯ মে ব্রিগেডের ঐতিহাসিক সমাবেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর সাথে মাত্র ৫ জন মন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন দিলীপ ঘোষ (পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন), অগ্নিমিত্রা পাল (নারী ও শিশুকল্যাণ), নিশীথ প্রামাণিক (উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও ক্রীড়া), ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনীয়া। মাত্র ৫ জন মন্ত্রীর কাঁধে বিশাল রাজ্যের সমস্ত দপ্তরের ভার থাকায় প্রশাসনিক কাজে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। আজকের এই বড় সম্প্রসারণের ফলে শূন্য থাকা দপ্তরগুলো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পাবে, যা রাজ্যের থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই নতুন মন্ত্রীদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
একনজরে নতুন মন্ত্রীদের তালিকা
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দীপক বর্মন, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ, মনোজ কুমার ওরাওঁ, দুধকুমার মণ্ডল, অর্জুন সিং, গৌরী শঙ্কর ঘোষ, জগন্নাথ চ্যাটার্জি, স্বপন দাশগুপ্ত, কল্যাণ চক্রবর্তী, শারদ্বত মুখার্জি এবং অজয় পোদ্দার।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন মালতি রাভা রায়, রাজেশ মাহাতো ও ইন্দ্রনীল খাঁ।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, আনন্দময় বর্মন, অশোক দিন্দা, চাঁদ বাউরি, বিশাল লামা, শান্তনু প্রামাণিক, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, উমেশ রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, কৌশিক চৌধুরী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘরামী, অমিয় কিস্কু, কলিতা মাজি, গার্গী দাস ঘোষ, বিরাজ বিশ্বাস, দীপঙ্কর জানা এবং সুমনা সরকার।