ত্রাণ চুরির অভিযোগে উত্তাল মথুরাপুর, সাংসদের কার্যালয়ে জনরোষ ও ব্যাপক ভাঙচুর

ত্রাণ চুরির অভিযোগে উত্তাল মথুরাপুর, সাংসদের কার্যালয়ে জনরোষ ও ব্যাপক ভাঙচুর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সাংসদ বাপি হালদারের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গরিব ও দুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দ শত শত কার্টন ও বাক্সভর্তি ত্রাণ বিতরণ না করে আটকে রাখার অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাংসদের অফিসে চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।

ত্রাণ মজুতের হদিস ও গণবিক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের অভিযোগ, দুর্গত মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণসামগ্রী সাধারণ মানুষের মধ্যে বণ্টন না করে সাংসদ বাপি হালদারের অফিসে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রোববার সকালে ক্ষুব্ধ জনতা সাংসদের অফিসের সামনে জড়ো হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে বাক্সভর্তি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করতে শুরু করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে মথুরাপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তদন্তের প্রভাব ও রাজনৈতিক মহলে শোরগোল

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার পূর্ববর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতি ও ত্রাণ চুরির অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত শুরু করেছে। সরকারের এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আবহেই মথুরাপুরের এই ঘটনাটি ঘটল। শুধু মথুরাপুরই নয়, একই দিনে সরকারি সম্পত্তি ও ত্রাণ চুরির অভিযোগে পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বাড়ি থেকে ২৭৫টি ত্রাণের ত্রিপল এবং ক্রীড়াসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণসামগ্রী আটকে রাখা এবং কালোবাজারির যে অভিযোগ বিরোধীরা করে আসছিল, এই উদ্ধার অভিযানের ফলে তা জনসমক্ষে চলে এসেছে। সরকারের কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ আগামী দিনে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের ওপর আইনি ও সামাজিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে ত্রাণ বণ্টনে স্বচ্ছতা না ফিরলে রাজ্যজুড়ে এমন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *