১৫ বছরের বিস্ময় বালক বৈভবের ব্যাটে রানের সুনামি, এক মরসুমেই আয় আড়াই কোটির গণ্ডি পার!

১৫ বছরের বিস্ময় বালক বৈভবের ব্যাটে রানের সুনামি, এক মরসুমেই আয় আড়াই কোটির গণ্ডি পার!

আইপিএল শেষ হলেও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত নাম বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে ক্রিকেট মহলে চর্চা থামছে না। বয়স মাত্র ১৫ বছর হলেও এবারের মরসুমে ব্যাট হাতে তিনি যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তা অনেক প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারের কাছেও স্বপ্নের মতো। রাজস্থান রয়্যালস ফাইনালে উঠতে না পারলেও রান, রেকর্ড আর পুরস্কারের বন্যায় ভেসেছেন এই তরুণ তুর্কি। আর মাঠের এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের হাত ধরে মাত্র এক মরসুমেই বৈভবের মোট উপার্জন আড়াই কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।

চুক্তির অঙ্ক ছাপিয়ে আয়ের জোয়ার

গত মেগা নিলামে বৈভব সূর্যবংশীকে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায় দলে নিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। নিয়ম অনুযায়ী এবারের মরসুমে তাঁর রিটেনার ফি ছিল সেটাই। কিন্তু মাঠের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে শুধু চুক্তির অঙ্কেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাঁর আয়। টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে রাজস্থানের হয়ে ১৬টি ম্যাচ খেলার জন্য ম্যাচ ফি বাবদ প্রতি খেলায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা করে মোট ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন তিনি। ফলে রিটেনার ফি এবং ম্যাচ ফি মিলিয়ে বৈভবের নিশ্চিত আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।

পুরস্কারের মঞ্চে বিপুল অর্থ প্রাপ্তি

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেও মূল আকর্ষণ ছিলেন বৈভব। টুর্নামেন্টে ১৬ ইনিংসে ৭৭৬ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ জেতার জন্য তিনি পেয়েছেন ১০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি মরসুমের সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতে পকেটে পুরেছেন আরও ১৫ লক্ষ টাকা। এর বাইরেও সেরা স্ট্রাইক রেট, সর্বাধিক ছক্কা এবং উদীয়মান ক্রিকেটারের সম্মান—প্রতিটি বিভাগের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে পেয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সেই সঙ্গে সুপার স্ট্রাইকার হওয়ার সুবাদে পুরস্কার হিসেবে একটি টাটা সিয়েরা গাড়িও উপহার পেয়েছেন তিনি।

বিধ্বংসী পারফরম্যান্স ও সম্ভাব্য প্রভাব

পুরো টুর্নামেন্টে রেকর্ড ৭২টি ছক্কা মেরে নিজেকে সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটার হিসেবে প্রমাণ করেছেন বৈভব। লিগ পর্বের বিভিন্ন ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য বারবার ম্যাচ সেরা বা সর্বোচ্চ ছক্কা দাতার মতো একক পুরস্কার পেয়েছেন, যার প্রতিটির মূল্য ছিল ১ লক্ষ টাকা করে। সব মিলিয়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকার চুক্তির ক্রিকেটার মাঠের পারফরম্যান্সে ভর করে ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি ঘরে তুলেছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভবের এই উত্থান ও বিপুল আর্থিক সাফল্য ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য তরুণদের জন্য এক নতুন বার্তা দিচ্ছে, যা আগামী দিনে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তরুণ প্রতিভা অন্বেষণের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *