শান্তিচুক্তি বানচালের নেপথ্যে কট্টরপন্থীরা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে উত্তপ্ত ইরান!

শান্তিচুক্তি বানচালের নেপথ্যে কট্টরপন্থীরা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে উত্তপ্ত ইরান!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কূটনীতির টেবিলে দুই দেশ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে সব হিসাব ওলটপালট করে দিচ্ছে ইরানের অন্দরে থাকা কট্টরপন্থী গোষ্ঠী। শুধু আন্তর্জাতিক স্তরেই নয়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধেও দেশটির কট্টরপন্থীরা এখন খড়্গহস্ত। ফলে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

চুক্তির বিরোধিতায় অনড় কট্টরপন্থী শিবির

নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার সঙ্গে যেকোনো ধরনের আপস বা শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ইরানের কট্টরপন্থীদের একটি বড় অংশ। এই বিরোধিতাকারীদের মধ্যে দেশটির সংসদের বেশ কয়েকজন সদস্য যেমন রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী প্রতিনিধিরা। জনসভা এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ খাটিয়ে তারা সরকারের ওপর ক্রমাগত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন। এমনকি ইরানের শীর্ষ নেতা বাঘের ঘালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান আমেরিকাকে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানও সুর বদলে জানিয়েছেন, একটা সময় আলোচনার টেবিলে বসার কথা ভাবা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আর আলোচনার কোনো অবকাশ নেই। শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার পথ প্রায় রুদ্ধ হতে চলেছে।

মোজতবা খামেনেইকে নিশানা এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আশঙ্কা

এই সংকটের আরেকটি বড় দিক হলো ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোজতবা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কট্টরপন্থীদের একটি গোষ্ঠী। সম্প্রতি রক্ষণশীল ধর্মগুরু ও আইনপ্রণেতা হামিদ রাসাই ‘সর্বোচ্চ নেতৃত্বের যোগ্য কে?’ শিরোনামে একটি বার্তা দিয়ে নবী নূহের অবাধ্য পুত্রের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেই কেউ ধার্মিক বা যোগ্য নেতা হন না—তার এই মন্তব্যের তীর সরাসরি মোজতবার দিকেই ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একদিকে মোজতবা খামেনেইয়ের নেতৃত্বাধীন একটি অংশ যখন ওয়াশিংটনের সাথে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, অন্যদিকে তখন প্রতিহিংসার রাজনীতিতে মগ্ন কট্টরপন্থীরা যুদ্ধের সলতেয় আগুন দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইরান যদি আমেরিকার সাথে কোনো ধরনের সমঝোতায় যায়, তবে দেশের ভেতরেই তীব্র অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কট্টরপন্থীদের অনড় অবস্থানের কারণেই আপাতত বহুল চর্চিত শান্তিচুক্তিটি খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *