রাজ্যপালের কনভয়ের জন্য দীর্ঘ জ্যাম, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ স্বামীর
ভিআইপি প্রোটোকলের দাপটে থমকে জীবন, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ক্ষুব্ধ স্বামীর অভিনব প্রতিবাদ
বেঙ্গালুরুর রাজপথে ফের একবার প্রকট হয়ে উঠল ভিআইপি সংস্কৃতির তিক্ত বাস্তব। সোমবার ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডে কর্নাটকের রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলটের কনভয় চলাচলের সুবিধার্থে দীর্ঘক্ষণ সাধারণের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এই পরিস্থিতিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে পড়েন এক ব্যক্তি। দীর্ঘ অপেক্ষা ও চরম অসহায়ত্বের মুখে পড়ে ধৈর্য হারান তিনি। গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার মাঝখানেই বসে পড়ে শুরু করেন অভিনব প্রতিবাদ।
ভিআইপি প্রোটোকল বনাম সাধারণ মানুষের হয়রানি
রাস্তায় বসে পড়ার পর কর্তব্যরত ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টরের সঙ্গে ওই ব্যক্তির তর্কাতর্কি বেধে যায়। ক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। রাজ্যপাল ভিআইপি হতে পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সাধারণ মানুষের কোনো অস্তিত্ব নেই।’ পুলিশের পক্ষ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন তিনি। এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
এই ঘটনা নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক অতীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একই রকম অভিযোগ উঠে এসেছে। ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে যেভাবে সাধারণ মানুষের জরুরি কাজ ও সময়কে অবহেলা করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। গত মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিআইপি সংস্কৃতি কমিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকারি আধিকারিকদের প্রোটোকল মানার ক্ষেত্রে মানবিক হওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও, মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন কতটা ঘটছে, বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা সেই মৌলিক প্রশ্নটিকেই বড় করে তুলেছে। জরুরি প্রয়োজনে আটকে পড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সময়ের মূল্য কি কোনো প্রোটোকলের চেয়ে কম—এই প্রশ্নই এখন জনমানসে ঘুরপাক খাচ্ছে।