প্রাসাদ নয়, টালির চালের ঘর থেকেই মন্ত্রিসভায়! শুভেন্দুর নতুন ভরসা নদীয়ারচাঁদ সত্যিই ‘মাটির মানুষ’

রাজনীতিবিদ বললেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিলাসবহুল প্রাসাদ, ঝাঁ-চকচকে গাড়ি আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু এই চেনা ছকের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটিয়ে নজর কেড়েছেন পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ২ ব্লকের চেলিয়ামা গ্রাম পঞ্চায়েতের আগুইটাড় গ্রামের বাসিন্দা নদীয়ারচাঁদ বাউরি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভায় রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পাড়া বিধানসভার এই বিধায়ক। তবে ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছালেও তাঁর জীবনযাপনে কোনো জাঁকজমক নেই। মাটি, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি সাধারণ কোঠা বাড়ি এবং টালির ছাদের নিচেই এখনও বাস করেন এই নতুন মন্ত্রী।
সাধারণ জীবন থেকে ক্ষমতার অলিন্দে
নদীয়ারচাঁদ বাউরি শিক্ষাগত যোগ্যতায় একজন বিজ্ঞান স্নাতক (সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট)। একসময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করা এই মানুষটি পেশায় পড়াডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গোয়াই ও দামোদর নদের মিলনস্থলের বালির চরে জন্ম নেওয়া নদীয়ারচাঁদ ২০১৬ সালে প্রথমবার পাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে নিজের এলাকায় জনসংযোগ ও সততা বজায় রেখে পরপর দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর এই সততা এবং জনমুখী কাজের পুরস্কার হিসেবেই এবার শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিষেক ঘটল।
সততা ও সাদামাটা জীবনযাত্রার প্রভাব
কয়লা পরিশোধন কেন্দ্রের সামান্য কর্মী বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাইয়ের হাত ধরে বড় হয়েছেন নদীয়ারচাঁদ। চার ভাইয়ের একান্নবর্তী পরিবারের এই সদস্যের মন্ত্রী হওয়ার দিনেও বাড়িতে ছিল অত্যন্ত সাধারণ আয়োজন। বিলাসবহুল ভোজের বদলে কলমি শাক, ভাত, ডাল আর পোস্তর মতো সাদামাটা খাবারেই উদযাপিত হয়েছে তাঁর এই সাফল্য। একজন স্কুল শিক্ষক এবং মাটির মানুষের এই রাজনৈতিক উত্থান গ্রামীণ রাজনীতিতে এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, এই ধরনের সৎ ও সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা নেতৃত্বকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার ফলে সরকারের প্রতি আমজনতার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে পুরুলিয়া ও সাঁওতালডিহি শিল্পাঞ্চলের মতো প্রান্তিক এলাকার মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি সরকারের শীর্ষ মহলে পৌঁছানোর পথ সুগম হবে। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নদীয়ারচাঁদ বাউরি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, মানুষের ভালোবাসায় জিতে আসার পর এখন তাঁর দায়িত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গেল।