অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিআইপি জটে, ক্ষোভে মাঝরাস্তায় বসেই অভিনব প্রতিবাদ স্বামীর!

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিআইপি জটে, ক্ষোভে মাঝরাস্তায় বসেই অভিনব প্রতিবাদ স্বামীর!

বেঙ্গালুরুর দীর্ঘস্থায়ী যানজট এবং তথাকথিত ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ নিয়ে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার রূপ নিল এক নজিরবিহীন ও অভিনব প্রতিবাদে। কর্ণাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের কনভয় পার করার জন্য দীর্ঘক্ষণ রাস্তা বন্ধ রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। সেই জটে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে অবশেষে ক্ষোভে-হতাশায় রাস্তার মাঝখানেই বসে পড়ে প্রতিবাদ জানালেন এক ব্যক্তি। বেঙ্গালুরুর ওল্ড এয়ারপোর্ট রোড এলাকার এই ঘটনাটি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ঝড় তুলেছে।

ক্ষোভের কারণ ও পুলিশের অসহায়তা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রাজ্যপালের কনভয় নির্বিঘ্নে পার করার জন্য ট্র্যাফিক পুলিশ সাময়িকভাবে ওই ব্যস্ত সড়কের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার দুপাশে যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সেই তীব্র যানজটের মধ্যেই আটকে ছিল ওই দম্পতির গাড়ি। স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ধকল সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি রাস্তার মাঝখানে বসে পড়েন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কর্তব্যরত এক ট্র্যাফিক পুলিশ আধিকারিক তাঁকে রাস্তা থেকে উঠে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করছেন। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় থেকে ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যপাল ভিআইপি হতে পারেন, কিন্তু সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী এবং তাঁদের সময়ের কি কোনো মূল্য নেই? জবাবে পুলিশ আধিকারিক পরিস্থিতি সামাল দিতে “তুমিও গুরুত্বপূর্ণ, এখন উঠে যাও” বলে শান্ত করার চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ভিড়ের মধ্য দিয়েই রাজ্যপালের কনভয় পার করে দেওয়া হয়।

ভিআইপি সংস্কৃতির প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা

এই ঘটনাটি ভারতের মেট্রো শহরগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক যাতায়াতের অধিকার এবং প্রশাসনিক প্রোটোকলের দ্বন্দ্বকে আবারও বড় আকারে সামনে এনেছে। ভিআইপিদের যাতায়াতের জন্য প্রায়শই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা আটকে রাখার এই সংস্কৃতি অ্যাম্বুলেন্স বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মতো জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে থাকা মানুষদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

প্রশাসনিক এই আড়ম্বরের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষের প্রভাব পড়ছে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে। অথচ, সম্প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সরকারি প্রোটোকলে অযথা জাঁকজমক ও জনভোগান্তি কমানোর পক্ষে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি মন্ত্রী ও আধিকারিকদের সংযত আচরণের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমাতে নিজের কনভয়ের আকারও অর্ধেক করার নির্দেশ দেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বাস্তব চিত্র যে এখনও বদলায়নি, বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *