বার্ধক্য ভাতার আবেদনে মিলল বিধবা ভাতা, পিংলায় গ্রেফতার প্রবীণ চিকিৎসক!

বার্ধক্য ভাতার আবেদনে মিলল বিধবা ভাতা, পিংলায় গ্রেফতার প্রবীণ চিকিৎসক!

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় পুরুষ হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিধবা ভাতার টাকা নেওয়ার অভিযোগে এক প্রবীণ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত চিকিৎসকের নাম অমলেন্দুবিকাশ মণ্ডল (৬৫)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে পিংলা থানা এলাকার ক্ষিরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের যশরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা অমলেন্দুবাবুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই ভাতার টাকা ঢুকছিল। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারের পর সোমবার তাঁকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

ভুলের খেসারত নাকি উদাসীনতা

ধৃত চিকিৎসকের দাবি, তিনি ২০২২ সালে নিয়ম মেনে বার্ধক্য ভাতার জন্যই আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের ভুলে তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা আসতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের জানালেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ করেনি। ফলে সরকারি স্তরের উদাসীনতার কারণেই তাঁকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আশীষ মাইতি এই বিষয়ে তাঁর অজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি এবং তদন্তে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে শাসক দলের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের টাকা ঢোকার অভিযোগ সামনে এসেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। এই আবহে পুরুষ হয়ে বিধবা ভাতা পাওয়ার এই নতুন ঘটনাটি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে বড়সড় গাফিলতি ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রশাসনের শীর্ষ মহলের নির্দেশে এই ধরণের জালিয়াতি রুখতে রাজ্যজুড়ে তদন্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *