ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আগ্রাসন থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাঁচাতে বড় পদক্ষেপ নিল আইসিসি

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আগ্রাসন থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাঁচাতে বড় পদক্ষেপ নিল আইসিসি

বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের রমরমা বাজারের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো। ভারতের আইপিএল ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চলছে। বছর শেষে এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ইউরোপ টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগও। একের পর এক লিগের আধিক্যের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ‘উদ্ধার’ করতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি।

আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর একটি সুষ্ঠু সমঝোতা ও সমন্বয় সাধনের জন্য আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচের দায়বদ্ধতা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বাণিজ্যিক প্রসারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে ক্রিকেট বোর্ডগুলো। বিশেষ করে আর্থিক নিরাপত্তার কারণে ছোট দেশগুলোর ক্রিকেটাররা জাতীয় দলের চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে হেনরিক ক্লাসেন বা সুনীল নারিনের মতো বিশ্বমানের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে বেছে নিয়েছেন, যা আইসিসির বৈশ্বিক ক্রিকেট প্রসারের পরিকল্পনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

কমিটির লক্ষ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব

আইসিসির গঠিত এই বিশেষ কমিটি মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে কাজ করবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী দিনে একজন ক্রিকেটার বছরে সর্বোচ্চ কয়টি বিদেশি লিগে অংশ নিতে পারবেন, তার একটি নির্দিষ্ট সীমা বা কোটা নির্ধারিত হতে পারে। এর ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারে লাগাম টানা সম্ভব হবে এবং ক্রিকেটাররা জাতীয় দলের ম্যাচে অংশ নিতে বাধ্য হবেন। তবে এই নিয়মের ক্ষেত্রে ভারত ব্যতিক্রমী অবস্থানে থাকছে। কারণ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের এমনিতেই বিদেশের কোনো টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনুমতি নেই। আইসিসির এই নতুন পদক্ষেপ বিশ্ব ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি বনাম আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভারসাম্য কতটুকু ফেরাতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *