বিরোধী নেত্রীর মেজাজে পথে মমতা, ওয়াই চ্যানেলের ধর্না মঞ্চে বিশৃঙ্খলা

ক্ষমতা হারানোর পর ফের একবার পুরনো বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ ঘরোয়া পরিস্থিতির তোয়াক্কা না করে তিনি সশরীরে হাজির হন কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে। তবে সেখানে পৌঁছানো মাত্রই ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সম্মুখীন হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ট্রাম ডিপোর শেডের নিচে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে মাঝপথেই বক্তব্য থামাতে বাধ্য হন তিনি।
অসহযোগিতা ও বিক্ষোভের অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে তাঁর কর্মসূচিকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে। মঞ্চ তৈরির অনুমতি না দেওয়া এবং মাইক ব্যবহারের সুযোগ না মেলায় তিনি হ্যান্ডমাইক হাতেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পুলিশকে ব্যবহার করে তৃণমূলের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সভায় উপস্থিত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের লাগাতার স্লোগান ও হট্টগোলের কারণে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়া কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়ে। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, যেভাবে বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং দল ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা
বিশৃঙ্খলার মধ্যেও মঞ্চে তাঁর পাশে দেখা যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলের আন্দোলনের ইতিহাসের ওপর জোর দেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অনুমতি না দিলেও তিনি যেখানে খুশি প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বহিরাগতদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। যাবতীয় বাধা ও দমনপীড়ন সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে এক চুলও সরবে না বলে এদিন হুঁশিয়ারি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।