“মাফ করবেন, আর চাপ নিতে পারছি না”: চিকিৎসায় অসহযোগিতা নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

“মাফ করবেন, আর চাপ নিতে পারছি না”: চিকিৎসায় অসহযোগিতা নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসার সময় হাসপাতালে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, সংকটাপন্ন অবস্থায় যখন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন যথাযথ চিকিৎসার পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

ঘটনার যে দিকগুলো উঠে এসেছে:

  • হাসপাতালের অসহযোগিতা ও জটিলতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রোগীর শারীরিক অবস্থা যখন অত্যন্ত গুরুতর ছিল, সেই মুহূর্তে হাসপাতালের সিইও’র কাছ থেকে অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল, যা জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছিল।
  • প্রশাসনিক চাপ ও ভীতি প্রদর্শন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, পুলিশ ওই নার্সিং হোম বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিচ্ছিল। এই চাপের কারণেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না।
  • সিইও-র অসহায়তা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্রমা কেয়ারে স্থানান্তরিত করা হয়, তখন ওই হাসপাতালের সিইও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সরাসরি জানান যে, বাইরের চাপ ও ভীতি প্রদর্শনের কারণে তিনি আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না। সিইও-র এই মন্তব্য—”মাফ করবেন, আর চাপ নিতে পারছি না”—রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।

এই ঘটনাটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে রাজনীতিকরণ এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা যে কোনো রোগীর সুরক্ষা এবং চিকিৎসার অধিকারের পরিপন্থী। বিরোধী রাজনীতি বা প্রশাসনিক দন্দ্বের জেরে যখন স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো জরুরি ক্ষেত্রে এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়, তা জনমানসে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এই বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *