পরীক্ষার্থীদের পাহাড় প্রমাণ ক্ষোভের মুখে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র, সিবিএসই-র কাছে তলব করা হলো রিপোর্ট!

পরীক্ষার্থীদের পাহাড় প্রমাণ ক্ষোভের মুখে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র, সিবিএসই-র কাছে তলব করা হলো রিপোর্ট!

সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার খাতা দেখার পদ্ধতিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর অবশেষে এই ইস্যুতে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। খাতা দেখার অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতিতে সত্যিই কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা জানতে চেয়ে সিবিএসই বোর্ডের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্র। শিক্ষামন্ত্রকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি আভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানও শুরু করা হয়েছে।

পদ্ধতিগত ত্রুটি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ

গত কয়েক সপ্তাহে সিবিএসই দ্বাদশের খাতা দেখার পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের পাহাড় জমেছে। অভিযোগের মূল তির ‘কো এম্পট এডুটেক’ নামক একটি সংস্থাকে ওএসএম পদ্ধতির বরাত দেওয়া নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে সিবিএসই বোর্ডের পক্ষ থেকে খাতা দেখার পদ্ধতিগত মান মারাত্মকভাবে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এমনকি বোর্ডের সবুজ সংকেত থাকায় পরীক্ষার্থীদের খাতা মোবাইলেও স্ক্যান করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ১৩ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিবিএসই বোর্ড সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরীক্ষার্থীদের পেশ করা প্রমাণের কোনো সদুত্তর তারা দিতে পারেনি।

তদন্তের মুখে টেন্ডার বিতর্ক ও বিরোধীদের চাপ

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরীক্ষার্থীরা নিজেরাই বোর্ডের দেওয়া একাধিক টেন্ডারের বয়ান এবং অনলাইনে প্রকাশিত খাতার স্ক্যানড কপি বিশ্লেষণ করে অনিয়ম সামনে এনেছেন। দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের টেন্ডারে রোবোটচালিত স্ক্যানারের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে যেকোনো স্ক্যানারে খাতা স্ক্যানের অনুমতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছবির মান ৩০০ ডিপিআই থেকে কমিয়ে ২০০ ডিপিআই করা হয়েছিল। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ায় বিরোধীরা। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অভিযোগে রাজনৈতিক চাপ বাড়তেই জুনের প্রথম দিনে সিবিএসই-র বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলো শিক্ষামন্ত্রক। এই আভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের ফলে বোর্ডের পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *